ভূপতিনগরের বিস্ফোরণের (Bhupatinagar Blast) সময় নিজেদের পেশ করা চার্জশিটে পাল্টে দিয়েছে পুলিশ, এমনটাই অভিযোগ করেছে এনআইএ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকদের দাবী, পুলিশ যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে ভূপতিনগরের বিস্ফোরণের সময় পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এদিন আদালতে এমনই দাবী করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কেন এমন করা হল, প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
আজ, সোমবার এনআইএ বিশেষ আদালতে সৌম্যেন্দ্রনাথ দাসের এজলাসে ছিল ভূপতিনগরের বিস্ফোরণের (Bhupatinagar Blast) মামলার শুনানি। এদিন এনআইএ-র তরফে আদালতে দাবী করা হয়, বিস্ফোরণের সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা নাকি এগিয়ে দেখানো হয়েছে পুলিশের চার্জশিটে।
এদিন বিচারকের সামনে এনআইএ আধিকারিক বলেন, “ভূপতিনগর বিস্ফোরণের (Bhupatinagar Blast) পর পুলিশ তদন্ত করে যে চার্জশিট দিয়েছিল তাতে বিস্ফোরণের সময় বলা হচ্ছে রাত সাড়ে আটটা। কিন্তু আমরা তদন্তে পেয়েছি বিস্ফোরণ ঘটেছে রাত্রি দশটার আশেপাশে। এই মর্মে কয়েকজন সাক্ষীর বয়ানও পেয়েছি”।
এনআইএ-র দাবী এই ঘটনায় কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই বিস্ফোরণের (Bhupatinagar Blast) সময় পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তিনি এও অভিযোগ করেন, এই বিস্ফোরণের জেরে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল, তাদের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে অভিযুক্ত বলাই মাইতি ও মনোব্রত জানার ফোনে কথা হয়েছিল ৯টা ৫১ মিনিট নাগাদ।
এদিন তদন্তকারী আধিকারিকরা আদালতে জানান, ফোনে তাদের সেই কথোপকথনের নথি রয়েছে তাদের হাতে। তাদের প্রশ্ন, যদি পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী বিস্ফোরণ সাড়ে আটটার সময় হয়ে থাকে, তাহলে ৯টা ৫১ মিনিটে ফোনে কথা বলা কীভাবে সম্ভব মৃত ব্যক্তিদের?
জানা গিয়েছে, এদিন অভিযুক্ত বলাই মাইতি ও মনোব্রত জানাকে আরও তিনদিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় এনআইএ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে চান যে ঘটনার দিন অভিযুক্তরা ফোনে কী কী কথা বলেছেন। সমস্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে পেতেই এই হেফাজতে নেওয়ার আবেদন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে পূর্ব মেদিনীপুর ভগবানপুর ২ ব্লকের ভূপতিনগর থানা এলাকায় নাড়ুয়াবিড়লা গ্রামে এক বিস্ফোরণের (Bhupatinagar Blast) ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩ জনের। যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়, সেটি তৃণমূল নেতার বলে অভিযোগ ওঠে। মৃতদের মধ্যে একজনের স্ত্রী দাবী করেছিলেন, ওই বাড়িতে বাজি তৈরির কাজ চলছিল। এই ঘটনায় এনআইএ-এর তদন্তের দাবীতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আদালতের নির্দেশেই এনআইএ-র আধিকারিকরা ভূপতিনগরে তল্লাশিতে যান। তবে সেখানে তৃণমূল নেতা বলাই মাইতি ও মনোব্রত জানাকে গ্রেফতার করলে হামলার মুখে পড়তে হয় আধিকারিকদের। সেই ভূপতিনগরের (Bhupatinagar Blast) মামলারই শুনানি ছিল এদিন আদালতে।





