গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বিমল গুরুংকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর! “আমি গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দিইনি” বললেন তিনি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিমল গুরুংয়ের সখ্য গোর্খাল্যান্ডের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছিল। এবার বাঙালিদের সেই জল্পনাকে কল্পনা করতে বারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে নিজের পূর্ববর্তী অবস্থান‌ই ধরে রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষ করলেন বিজেপিকেও। সব দলকে চুপ করিয়ে জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানের জনসভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দিইনি, তাই ওখানে জিতিনি। পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করলে আমরাই করব। ওরা পারবে না।”

নিজের এহেন বক্তব্যের সঙ্গে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন বিমল গুরুংদেরও। স্পষ্ট বোঝালেন, বিধানসভা ভোটের আগে গুরুং যতই রাজ্য সরকারের সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি মেশামেশি করুক না কেন, তাঁদের গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে কোনমতেই আমল দেবে না রাজ্য সরকার।
 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অন্যান্য রাজ্যের মতো বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার জন্য পাহাড়ে গোর্খাদের পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি অনেকদিনের। রাজনৈতিক দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা গুরুংয়ের নেতৃত্বে থাকাকালীন সেই দাবিতে ইন্ধন যুগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু GTA চুক্তি এবং পৃথক রাজ্যের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে দার্জিলিং, তরাই-ডুয়ার্সের অবস্থান মোটেই অনুকূল নয়। তাই তাঁদের গোর্খাল্যান্ড কিংবা পশ্চিমবঙ্গকে ভাঙার দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়নি কখনও।
 
তবে, বিজেপি বরাবরই গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা রাজ্য ভাগের পক্ষে। আর ইতিমধ্যেই ক্ষমতায় এলে গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে রেখেছেন  নেতারা। তাই ২০১৪ এবং ২০১৯এর লোকসভা ভোটে পাহাড় থেকে তৃণমূল নয়, জিতেছেন বিজেপি প্রার্থীরাই।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানের জনসভা থেকে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, “৬ বছর ধরে ওরা গুরুংদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছে গোর্খাল্যান্ড করে দেবে বলে। তাই ২০১৪এ একবার পাহাড়ে জিতেছে, কিন্তু প্রতিশ্রতি রাখেনি। আবার ২০১৯এ বিজেপি জিতেছে। আমরা কিন্তু গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দিইনি, তাই আমরা জিতিওনি।” এরপরই তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করতে পারলে একমাত্র আমরাই পারব। বিজেপি পারবে না, ওদের দ্বারা হবে না।”

RELATED Articles