শিক্ষাব্যবস্থা একটি সমাজের উন্নতি এবং বিকাশের মূলে থাকে। এটি আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে। শিক্ষকদের ভূমিকা, স্কুলের অবকাঠামো এবং অন্যান্য সম্পদ শিক্ষার গুণগত মানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সমাজের উভয়েরই দায়িত্ব, যাতে প্রতিটি শিশু শিক্ষার প্রতি সমান সুযোগ পায় এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারে। সময়ের সাথে শিক্ষাব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, তবে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক সমস্যা রয়ে গেছে, যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষা সংক্রান্ত উপকরণ নেই।
বর্তমান যুগে, যদিও শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তবুও অনেক বিদ্যালয়ে চরম সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। শহর এবং গ্রামের মধ্যে শিক্ষার অভ্যন্তরীণ বৈষম্য এখনো বিদ্যমান। শহরে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষা উপকরণ যুক্ত হলেও, গ্রামাঞ্চলের অনেক স্কুল এখনও মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষক সংকট এবং উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব একটি বড় সমস্যা, যা অনেক বিদ্যালয়ের নিয়মিত পঠনপাঠন ব্যাহত করছে। এই সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ শিক্ষা পাচ্ছেন না।
শিক্ষক সংকটে ভোগা একটি স্কুলের উদাহরণ
কেতুগ্রাম ২ ব্লকের নতুনগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুল একটি চমকপ্রদ উদাহরণ। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে, স্কুলে রয়েছে মাত্র একজন শিক্ষক। তিনি হলেন মণিশঙ্কর নস্কর, যিনি চারটি শ্রেণির ক্লাস পরিচালনা করেন। কিন্তু বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে, নিয়মিত ক্লাস নিতে তার সময় পাওয়া যায় না। ফলে, ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী জয়কৃষ্ণ প্রধান।
আরও পড়ুনঃ জানুয়ারির শেষে আসছে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিপ্লব! আপনার জীবনে কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?
জয়কৃষ্ণ প্রধান জানিয়েছেন, পূর্বে স্কুলে তিনজন শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে দুটি পদ শূন্য রয়েছে। মণিশঙ্কর নস্কর স্যারের অফিসিয়াল কাজের জন্য স্কুলে না থাকলে, তিনি ক্লাস নেন, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে। বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি নিয়ামল বসিরও জানিয়েছেন যে, জয়কৃষ্ণ প্রধান ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছেন, বিশেষ করে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শ্রেণির বিষয়গুলি তিনি খুব ভালোভাবে পড়াতে পারেন। তবে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংকট এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলোকের আশায় নতুন শিক্ষক আসছেন
বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে ইতিমধ্যেই একাধিক আবেদন জানানো হয়েছে। অবশেষে, কেতুগ্রাম ২ ব্লকের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কুন্তল দত্ত জানিয়েছেন যে, নতুনগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুলে দুটি অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। খুব শীঘ্রই তারা বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। এর ফলে, স্কুলের পঠনপাঠন আরও সুসংগঠিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।





