আজ, মঙ্গলবারই বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনার শেষ নেই। কারণ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে রাজনীতিতেই যোগ দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট। এবার জানা যাচ্ছে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর আরও দুই বিচারপতিও নাকি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন। কারা তারা?
গতকাল, সোমবার এসএসসি মামলায় আদালত সিবিআইয়ের কাছে জানতে চায়, সিবিআই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করেছে কী না। কিন্তু সিবিআই জানায়, চার্জশিটের জন্য কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতির প্রয়োজন। তারা ২০২২ সালে অনুরোধ করলেও, এখনও অনুমতি মেলেনি।
এদিন আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দেয় যাতে রাজ্য নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে। রাজ্যের দাবী, নথি খতিয়ে দেখতে সময় লাগছে। এমন সময় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন যাতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে করা সমস্ত মামলা খারিজ করা হয়।
এদিন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ্য করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য করা হয়েছে। সময় এলে তোমার ও তোমার বিচারপতি খাপ খুলব”।
এরপরই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্কে বিচারপতির উদ্দেশে কল্যাণ বলেন, “আদালতের মর্যাদা আমরা নষ্ট করিনি। আপনার সহকর্মী করেছেন। আমি এক বছর ধরে বলে আসছি। আপনারা আটকাতে পারেননি। তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই, ইডি সবাই মিলে আদালতের মর্যাদা নষ্ট করেছেন”।
নাম না করেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একক বেঞ্চের বিচারপতি (পড়ুন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) রবিবার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক উদ্দেশ নিয়েই এসব নির্দেশ দিয়েছেন। এই সব মামলার শুনানি করে তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে ফেললেন। আরও দু’জন বিচারপতি আছেন, তাঁরাও যাবেন, আসন খুঁজছেন”। তবে এই দুই বিচারপতি কারা, সেই নাম খোলসা করে বলেন নি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, গত রবিবারই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়ে দেন যে মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করবেন। রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন বিচারপতি তা স্পষ্ট। তবে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন, তা নিয়ে এখনও জল্পনা রয়েছে। যদিও বিজেপির দিকেই যে পাল্লা ভারী তা পরিষ্কার। সূত্রের খবর, বিজেপিতে যোগ দিয়ে তমলুকের আসন থেকে লোকসভা ভোটে লড়তে পারেন তিনি।





