Old man selling badam for his grandchildrens education: কথায় বলে দাদু দিদার ভালোবাসার মতো ভালোবাসা এ জগতে আর কোথাও নেই। মা বাবার তুলনায় একটু বেশি প্রশয় দেন বাড়ির বড়োরা। দাদু-দিদা, ঠাকমা-দাদুর কাছে আহ্লাদের শেষ নেই নাতি নাতনিদের। মায়ের বকুনি, বাবার মার থেকে আগলে রাখেন এনারাই। মাতৃস্নেহের পাশাপাশি এদের ভালোবাসা ও যে কতটা দরকারী তা অনেকেই অনুভব করেন। নাতি নাতনিদের জন্য নিজের শেষ প্রাণটুকু অবধি কিছু করে যেতে চান। এমনই নিদর্শন পাওয়া গেল বাংলার এক দাদুর ঘরে। তবে এই গল্পটা কারোর একজনের বাড়ি নয়। খবর নিলে দেখা যাবে অনেক বাড়িতেই এমন হয়ে থাকে।
উলুবেড়িয়া চেঙ্গাইলের সাঁপুইপাড়ার বাসিন্দা হাঁদুরাম দাসের স্ত্রী, ছেলে, বউমা, ও দুই নাতি নিয়ে সংসার। ছেলের উপার্জনে কোনোরকম সংসার চলে যায়। দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বাবাকে। এবার সেই কারণেই দুই নাতির পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন দাদু। বয়সকালেও কাজ করছেন হাঁদুরাম দাস (Old man selling badam for his grandchildrens education)।
তাঁর কথায়, “প্রতিদিন সকালে বাজার থেকে বাদাম কিনে এনে বাড়িতে প্যাকেট করি। তারপর বিকেলে চেঙ্গাইল ষ্টেশন থেকে ট্রেন ধরে উলুবেড়িয়া ষ্টেশনে নামি। পরে সেখানে থেকে পায়ে হেঁটে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করি” (Old man selling badam for his grandchildrens education)।
বৃদ্ধ হাঁদুরাম দাসের লক্ষ্য একটাই বাদাম বিক্রি করে রোজ ৯০ টাকা উপার্জন করতেই হবে তাঁকে। যার মধ্যে ট্রেনের টিকিট ১০ টাকা আর বাকি ৮০ টাকা তিনি ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন। কারণ এই ৮০ টাকা ঘরে নিয়ে যেতে না পারলে তার নাতি নাতনিরে পড়াশোনার খরচ চালাতে সমস্যা হবে। তাই প্রতিদিন বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চেপে উলুবেড়িয়ায় গিয়ে রাস্তায় রাস্তায় বাদাম বিক্রি করেন বছর ৬৫ এই দাদু (Old man selling badam for his grandchildrens education)। তবে গরমে ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করলেও কষ্ট নেই দাদুর। তার একমাত্র লক্ষ্য নাতিদের পড়াশোনার খরচ চালানো।
বৃদ্ধ হাঁদুরাম বলেন, “প্রতিদিন আমাকে বাদাম বিক্রি করে ৯০ টাকা উপার্জন করতে হবে। তার মধ্যে ট্রেন ভাড়া বাদ দিয়ে ৮০ টাকা বাড়িতে নিয়ে গেলে দুই নাতির পড়াশুনার খরচ সামলানো যাবে”। ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, গৃহ শিক্ষকেরা অর্ধেক বেতন নিলেও পড়াশোনার একটা খরচ রয়েছেই। সেজন্যই বাদাম বিক্রি করতে হচ্ছে নাতিদের পড়াশোনার জন্য। (Old man selling badam for his grandchildrens education) তিনি বলেছেন, তিনি যতদিন পারবেন ততদিন নাতিদের পড়াশোনার জন্য এভাবেই বাদাম বিক্রি করে যাবেন।
একজন বৃদ্ধ তীব্র গরমে নাতিদের পড়াশোনা চালানোর উদ্দেশ্যে বাদাম বিক্রি করছেন (Old man selling badam for his grandchildrens education)। এই ঘটনা প্রসঙ্গে উলুবেরিয়া পুরসভার ভাইস চেরায়ম্যান ইনামুর রহমান বলেন, “এই ধরনের কোনও বিষয় আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব এবং অবশ্যই পাশে থাকব”। এখন দেখার সেই বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারকে কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় কী না!






