সিঙ্গুর মামলায় বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনাল ন্যানো কারখানার ক্ষতিপূরণ মামলার রায় টাটাদের পক্ষেই গিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা টাটা মোটরসকে দিতে হবে রাজ্যকে। এর সঙ্গে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১১ শতাংশ সুদের হার যুক্ত হবে। ফলে সুদ-সহ ১৩০০ কোটি টাকা দিতে হবে রাজ্যকে। আর তা মেটাতে হবে তিনমাসের মধ্যেই। এই নির্দেশের পরই নানান মহল থেকে কটাক্ষ আসা শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।
কী প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের?
এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকার তো দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। এবার তো রাস্তার ভিক্ষার পাত্র নিয়ে বসতে হবে। রাজ্য সরকারের অবিমৃষ্যকারিতার দায় এখন পশ্চিমবঙ্গবাসীকে দিতে হবে। এত কোটি কোটি টাকা কোথায় পাবে! এ তো সাংঘাতিক অবস্থা। অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাবে। নবান্ন বিক্রি হয়ে যাবে। এরা যে রাজ্যকে কোন অন্ধকারে নিয়ে গেল, তা এবার টের পাওয়া যাবে। ভেবেছিল, টাটাকে তাড়িয়ে মহা মস্তি করবে। এবার তার অব্যর্থ পরিণতি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে ভুগতে হবে”।
ট্রাইব্যুনালের এই নির্দেশের পর রাজ্যকে কটাক্ষ শানিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, যেভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তার বিরোধিতা সেই সময় করেছিল বঙ্গ বিজেপি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। কিন্তু ততক্ষণে জমির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বদল ঘটে। সেই কারণে জমির মালিক ও ভাগচাষীদের স্বার্থ যাতে রক্ষা হয়, তার জন্য প্রকল্প চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বিজেপি।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “তৃণমূলের হঠকারী আন্দোলন ও সিপিএমের অদূরদর্শিতা এক চরম শিল্প সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটিয়ে দিয়েছিল। আজ সেখানে শ্মশানের শান্তি বিরাজ করছে। দেশ ও দেশের বাইরে শিল্পপতিদের কাছে ভুল বার্তা গিয়েছে”।
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও। তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত কখনও হাইকোর্টে, কখনও সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার ধাক্কা খাচ্ছে। টাটাকে ওখানে কারখানা করতে না দিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে ধাক্কা দিয়েছে। হুগলির অর্থনীতি একটা বড় জায়গায় পৌঁছত, রাজ্যের অনেক বেকার চাকরি পেত। সেটাকে তো ধ্বংস করেছেই, তাছাড়া ক্ষতিপূরণের অঙ্ক যদি সেই সময়েই দিয়ে দিত, তাহলে আজ আর ১১ শতাংশ সুদ চড়িয়ে দিতে হত না। এর দায় নিতে হবে রাজ্য সরকারকে”।






