Panskura: চিপসকাণ্ডে বিচার চাইতেই ‘আরজি কর’-এর হুঁশিয়ারি! পাঁশকুড়ায় কিশোরের মাকে ধর্ষ*ণ ও খু*নের ভয়!

কোনওদিন ভাবেননি এমনটা শুনতে হবে! সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণাই যাঁর জীবনের বড় দুঃস্বপ্ন, এবার তাঁকেই শুনতে হল নৃশংস হুমকি— “আরজি করের মতো অবস্থা করব।” পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় চিপসচুরির অপবাদে আত্মহত্যা করা এক কিশোরের মা অভিযোগ করলেন, তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতেই ফের শোরগোল। আরজি কর হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার কথা মনে করিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোয় উঠছে প্রশ্ন— পাঁশকুড়ায় কি নতুন করে শুরু হচ্ছে ‘সাইলেন্স অপারেশন’?

ঘটনার সূত্রপাত মাস দেড়েক আগে। সপ্তম শ্রেণির এক কিশোর স্থানীয় দোকান থেকে চিপস চুরির অপবাদে পড়ে। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার শুভঙ্কর দীক্ষিত তাকে মারধর ও অপমান করে বলে অভিযোগ। মানসিক চাপে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয় কিশোর। এই ঘটনায় শুভঙ্কর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরের মা। ১৫ দিন পর ধৃত হয় শুভঙ্কর। এরপরই শুরু হয় চাপ, ভয় দেখানো, হুমকি।

মৃত কিশোরের মায়ের দাবি, পুলক গোস্বামী নামে এক হোমগার্ড যিনি তমলুক পুলিশ লাইনে কর্মরত, তিনি শুভঙ্করের হয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। প্রতিবেশী পুলক ছাড়াও আরও কয়েকজন নিয়মিত এসে হুমকি দিতে থাকে। যখন ওই মা রাজি হননি, তখনই তাঁকে বলা হয়— “আরজি করের ঘটনা মনে আছে তো? তোকে আর তোর মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলব।” আতঙ্কে কেঁপে ওঠে গোটা পরিবার। এই পরিস্থিতিতে তিনি পাঁশকুড়া থানায় গিয়ে পুলক সহ আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পাঁশকুড়া থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও অভিযুক্ত পুলক গোস্বামীর পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— যদি হুমকির অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে রাজ্য পুলিশের অন্দরেই কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর হুমকি দেওয়া হচ্ছে?

আর পড়ুনঃ কোভিড ভ্যাকসিন নয়, তরুণদের হৃদরোগ ও আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে দায়ী লাইফস্টাইল ও অন্যান্য কারণ — AIIMS-ICMR-এর চাঞ্চল্যকর গবেষণা

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতিও গরম। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের দিকে তীব্র আক্রমণ ছুড়ে বলেন, “এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। একদিকে খুন, অন্যদিকে ধর্ষণের হুমকি!” বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও জেলা পরিষদের সদস্য অলোক দোলুইও মুখ খুলেছেন। পাল্টা তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, “এটা পশ্চিমবঙ্গ, এখানে আইনের শাসন চলে।” এমনকি প্রাক্তন পুলিশকর্তা সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, “যদি সত্যি হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে, তা নিন্দনীয়। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে।”

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles