যা মাইনে পাই তাতে সংসার চলে না, মেদিনীপুরে আত্মঘাতী পার্শ্বশিক্ষক! মৃতের সংখ্যা ছুঁল ১৮৪

তিনি ছিলেন পার্শ্বশিক্ষক। ওই একই পদে কাজ করেছেন দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর। আর পারলেন না সামান্য মাইনেকে সঙ্গী করে জীবনের এই কঠিন লড়াই লড়তে। হার মানলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ‌দুলাল চন্দ্র দাস। বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।

২০০৪ সালে পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হন। তারপর দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। স্থায়ী চাকরি তো দূরের কথা, বেতন মিলত যৎসামান্য।  পরিবারের লোকেদের কথায়, যা আয় হত, তাতে করে সংসার চলত না। তারমধ্যে শারীরিকভাবে নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন তিনি। এরফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে কয়েকদিন ধরে যমে-মানুষে টানাটানি চলে। শেষমেশ আজ রবিবার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় এই পার্শ্ব শিক্ষকের।

সূত্র মারফত খবর এখনও আর্থিক কষ্ট, অনটনের জেরে এখন‌ও পর্যন্ত ১৮৪ জন পার্শ্বশিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , “ধাপে ধাপে পার্শ্বশিক্ষকদের স্থায়ী করা হবে। বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হবে।”

দুলাল বাবুর আত্মহননের ঘটনায়, পার্শ্বশিক্ষকদের ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভোগীরথ ঘোষ বলেন, “যা মাইনে পাই তাতে সংসার চলে না আমাদের।” প্রসঙ্গত, আপার প্রাইমারির ক্ষেত্রে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ১১,৩০০ টাকা। আর প্রাইমারির ক্ষেত্রে বেতন ৮,৮০০ টাকা। তিনি আরও বলেন, “আজকে ২৪ দিন ধরে আমাদের আন্দোলন চলছে বিকাশ ভবনের সামনে।”  

RELATED Articles