গত বছর ২২শে জুলাই নিয়োগ দুর্নীতির জেরে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দু’টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ৫১ কোটি টাকা, অনেক সোনাগয়না। সেই ঘটনায় জেলবন্দি পার্থ। একবছর কেটে গিয়েছে। আজ, সোমবার আলিপুর আদালতে ফের পেশ করা হয় তাঁকে। এদিন আদালতে ঢোকার সময় বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন পার্থ।
কী বলেন এদিন পার্থ?
আজ, সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ আলিপুর আদালতে পৌঁছন পার্থ। সাংবাদিকদের সামনে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন পার্থ। তাঁকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন নিয়োগ দুর্নীতি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বলে বারবার দাবি করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তা নিয়ে কী মত পার্থর? জবাবে তিনি বলেন, “কে কী বলল কিছু এসে গেল না। এটুকু বুঝেছি আমাকে জোর করে বিনা বিচারে এখানে আটকে রাখা হয়েছে”।
পার্থ প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের বন্দি মুক্তি কমিটির ভূমিকা নিয়েও
এই বিষয়ে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি। এরপর সরাসরি মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্রর নাম উল্লেখ করেন। রাজ্যের বন্দি মুক্তি কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, “সুজাত ভদ্রকে জিজ্ঞাসা করবেন যাঁরা বন্দিমুক্তি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন তাঁরা কোথায়? এখন বন্দিমুক্তি কমিটি কোথায়। আজকে বিনা বিচারে আমি এক বছর আছি, তাদের ভূমিকা কি?”
পার্থর এই মন্তব্যের পালটা কড়া জবাব দেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র। বলেন, বন্দিমুক্ত কমিটি সাধারণ রাজনৈতিক বন্দিদের নিয়ে কাজ করে। জেলে বন্দি থাকাকালীন বন্দিরা ঠিকমতো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন কিনা, তা দেখে ওই কমিটি। পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজনৈতিক বন্দি নন। তাই তাঁর ভরসা একমাত্র আইন। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা হবে। তাই সুজাতবাবু স্পষ্ট জানান, বন্দিমুক্তি কমিটির দিকে আঙুল তুলে কোনও লাভ নেই।
প্রসঙ্গত, এর আগেও আদালতে ঢোকার সময় একাধিকবার নানান মন্তব্য করেছেন পার্থ। সব সময়ই নিজের মন্তব্যে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও তিনি দলের পাশেই রয়েছেন। কিন্তু এবার একুশে জুলাই নিয়ে কোনও শব্দ খরচ করতে রাজি হননি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তবে কী এবার দলের প্রতি সত্যিই বিক্ষুব্ধ পার্থ? এমন প্রশ্নও উঠছে।





