আজব কান্ডই বটে! তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখালো তৃণমূলের কর্মীরাই। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির আমাদপুর গ্রামপঞ্চায়েতের অফিসে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক মহলে। জানা গেছে উন্নয়ন খাতের অর্থ বন্টনে অসঙ্গতি নিয়েই মূলত ক্ষোভ।
আমাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতটি চালায় তৃণমূল কংগ্রেস। এই পঞ্চায়েতের দুটি সংসদের দুই সদস্য বাহামনি সরেন ও অনিন্দিতা পাত্রর অভিযোগ উন্নয়নের টাকা প্রধান সাধনা হাজরা সমান ভাবে বন্টন করছেন না। মাত্র গুটি কয়েক সংসদের জন্য তিনি টাকা বরাদ্দ করছেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁদের এলাকায় উন্নয়ন কাজের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে না। আর এর ফলে তাঁদের সংসদ এলাকায় কোনও উন্নয়নের কাজ হচ্ছে না। প্রধান সাধনা হাজরা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী টাকা বন্টন করছেন। উন্নয়ন কাজের অর্থ বন্টন নিয়ে প্রধান তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনাও করেন না।
দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি তাদের কোনও দাবি মানেননি। উল্টে পঞ্চায়েত প্রধান সাধনা হাজরা শুধু পক্ষপাতিত্বই করে যাচ্ছেন। বাহামনি ও অনিন্দিতা বলেন, বুধবার বোর্ড মিটিং ডেকেও প্রধান হঠাৎ করে তা আবার বাতিলও করে দেন। এইসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই এলাকার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়েই এদিন তারা পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য হয়েছেন।
ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতেই স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় তুলে এদিন দলীয় পতাকা কাঁধে নিয়েই তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তারা তালাও ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। একে অপরের গায়ে গায়ে ঘেঁসেই চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে। খবর পেয়ে মেমারি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই সদস্যের আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে যদিও এদিন দাবি করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান সাধনা হাজরা।





