শনির পর রবিবারেও হয়রানি ট্রেন নিয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা স্টেশনে, চরম দুর্ভোগের মুখে সরকারি চাকরির পরীক্ষাপ্রার্থীরা

রবিবার ছুটির দিন বটে, অফিসযাত্রীদের তেমন চাপ নেই। কিন্তু সাধারণ যাত্রী? তারা তো রাস্তায় বেরবেন। এর উপর আজ, রবিবার আবার রয়েছে সরকারি চাকরির পরীক্ষাও। কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে ট্রেন ধরতে এসে হয়রানি। কারণ শনির পর রবিবারও বাতিল একগুচ্ছ লোকাল। এর জেরে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে।

দমদমে ইন্টারলকিংয়ের কাজের জন্য যে শিয়ালদহ মেইন শাখায় ১৪৩টি লোকাল বাতিল থাকবে, তা আগেই জানানো হয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষের তরফে। বাতিল করা হয়েছে ৩টি দূরপাল্লার ট্রেনও। কিছু ট্রেন আবার ঘুরপথেও যাচ্ছে। এর জেরে শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল চারটে পর্যন্ত একাধিক ট্রেন বাতিলের কথা আগেই জানানো হয়েছিল।

কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, যে ট্রেনগুলি বাতিলের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলি ছাড়া বাকি যে ট্রেন চলার কথা, সেগুলিও চলছে দেরিতে। আর সেই কারণে মহাবিপদে পড়েছেন যাত্রীরা। রাস্তায় বেরিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে তাদের। উদ্বেগের মধ্যে সরকারি চাকরি পরীক্ষার্থীরাও। সঠিক সময়ে পৌঁছনো নিয়ে তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

শিয়ালদহ স্টেশনের পাশের এনআরএস, মেডিক্যাল কলেজের মতো হাসপাতাল। এর ফলে হাসপাতালে পৌঁছতে হয়রানির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ট্রেন বাতিল থাকায় আর বাকি ট্রেন দেরিতে চলায় স্টেশনে স্টেশনে জমেছে ভিড়। ট্রেনে উঠতেও সমস্যা। ভিড় ট্রেনে উঠতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। দমদমে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্গতি থেকে মুক্তি মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এক পরীক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা ছিল বলে আগেই বেরিয়ে পড়েছি। ভয়ে ভয়ে আগেই বেরিয়ে পড়েছি। সাড়ে ৯টা থেকে পরীক্ষা ছিল আমরা। ৬টার মধ্যেই গোবরডাঙা থেকে বেরিয়ে পড়েছি”।

ট্রেন নিয়ে দুর্ভোগের ছবি দেখা গেল ব্যারাকপুরেও। অন্য এক যাত্রীর কথায়, “ট্রেন বাতিল তো রোজই হচ্ছে। সমস্যাও হচ্ছে। কী করা যাবে। নৈহাটি লোকাল বাতিল করে দিয়েছে। ওটা ধরার কথা ছিল। এখন দেখি কী করা যায়। অন্য কোনও উপায় যেতে হবে”।

রেল সূত্রে খবর, দমদম স্টেশনে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিংয়ের কাজ চলছে। শিয়ালদহ স্টেশনে সিগন্যাল ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা হচ্ছে। মে মাসের আগেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর থেকে পুরোনো ৯ বগির ট্রেন আর থাকবে না শিয়ালদহ শাখায়। সব ট্রেনেই ১২ বগি থাকবে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles