ফাঁকাই পড়ে রইল ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প, মানুষের দেখা নেই, ‘সরকারের টাকা নেই, পরিষেবা পাচ্ছেন না অনেকে, তাই অনীহা’, কটাক্ষ বিজেপির

আজ থেকে ফের জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প। কিন্তু প্রথম দিন অধিকাংশ ক্যাম্প ফাঁকাই পড়ে রইল। শিলিগুড়ির এক ক্যাম্পে এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান যে এদিন সর্বসাকুল্যে ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে মোটে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথী, বিধবা ভাতাতে কেউ কেউ তিন-চারবার করে আবেদন জমা দিয়েও পরিষেবা পান নি। মালদাতেই এমন অনেক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

দুয়ারে সরকারে কাগজপত্র জমা দিয়েও কোনও সুবিধা পাননি নদিয়ার গয়েশপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বেবি সরকার। তাঁর দাবী, বিগত তিনবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য ফর্ম ফিল আপ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না হওয়ায় লক্ষীর ভাণ্ডার এখনও চালু হয়নি। 

দুয়ারে সরকার শিবির নিয়ে শাসকদলকে তোপ দাগেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাঁর কথায় বলেন, “সরকারের ঘরে টাকা নেই। ফলে আবেদন করেও ভাতা পাচ্ছেন না বহু মানুষ। তাই অনেকে ফের ক্যাম্পে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন”। তাঁর মতে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই ক্যাম্প আসলে লোক দেখানো।

তবে বিজেপির কটাক্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। এই বিষয়ে শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতা রাজু পাল বলেন, “এর আগে একাধিক ক্যাম্পে অধিকাংশ মানুষ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। ফলে সেভাবে ভিড় নেই ক্যাম্পগুলিতে”। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তাঁর দাবী, “মানবিক সরকার নানা কাজ করছে। ফলে মানুষ সরকার ও শাসকদলের পাশেই থাকবে”।

দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর সাফ দাবী “রাজ্য সরকার নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ভিড় টানতে বিদ্যুৎ বিল মুকুবের টোপ দিচ্ছে”।

কিছুদিন একটি ফেসবুক পোস্ট করে শুভেন্দু দাবী করেন, “রাজ্য সরকার নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ভিড় টানতে বিদ্যুৎ বিল মুকুবের টোপ দিচ্ছে! যে রাজ্য ৩ মাসের বিল একসঙ্গে পাঠানোর পর, প্রথম মাসের বিল জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ পেরিয়ে গেলে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাড়িতে লোক পাঠিয়ে দেয় সেখানে কার বিল বাকি রয়েছে? প্রথমত বিদ্যুতের হার গগনচুম্বী, দ্বিতীয়ত বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয়ে দেখিয়ে অযৌক্তিক ভাবে জরিমানা আদায় করার রীতি যেখানে প্রচলিত, সেখানে বকেয়া মুকুবের টোপ, তাও আবার দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আসলে তবেই ! সত্যি, এই সরকার শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে”।

RELATED Articles