হঠাৎ আবির্ভাব! বীরভূমের জয়দেবের কেন্দুলি মেলায় দেখা মিলল অনুব্রত মণ্ডলের, জেল থেকে কবে ছাড়া পেলেন কেষ্ট?

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গরু পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে দিল্লিতে তিহাড় জেলে রয়েছেন তিনি। জেলা সভাপতির পদও হারিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে এমন অনেক ঘটনা উঠে এসেছে, যখন দেখা হয়েছে খোদ বীরভূমেই ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে তাঁর পোস্টার, ছবি। যখন সকলেই ভাবতে শুরু করেছেন যে রাজনীতি তিনি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই হঠাৎই তাঁর আবির্ভাব। বীরভূমের জয়দেবের কেন্দুলি মেলায় দেখা মিলল বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেলেন কেষ্ট?

প্রতি বছরই বীরভূমে কবি জয়দেবের স্মৃতি বিজরিত গীত-গোবিন্দ কাব্যের মাহাত্ম্য ভরা জয়দেব কেন্দুলি মেলা হয়। এই মেলার  পৃষ্ঠপোষক ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এই মেলার তৃণমূলের স্টলে ও গেটে রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। সেই গেটেই এবার অনুব্রত মণ্ডলেরও ছবি দেখা গেল। শুধু গেটেই নয়, কেন্দুলি মেলার ভিতর এদিক-ওদিক অনেক জায়গাতেই দেখা মিলল কেষ্টর ছবি। বীরভূমের রাজনীতি থেকে যে কেষ্টকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়, এটা হয়ত এরই প্রমাণ।  

হঠাৎ আবির্ভাব! বীরভূমের জয়দেবের কেন্দুলি মেলায় দেখা মিলল অনুব্রত মণ্ডলের, জেল থেকে কবে ছাড়া পেলেন কেষ্ট?

গতকাল, রবিবার এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। এদিন উপস্থিত ছিলেন সভাধিপতি কাজল শেখ, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক বিধান রায়, আখড়া কমিটির সভাপতি পরিতোষ চক্রবর্তী, আশ্রম কমিটির সভাপতি গোপাল ব্রহ্মচারী-সহ অন্যান্যরা। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বীরভূমের প্রবীণ বাউল শিল্পী বাঁকাশ্যাম দাস, কার্তিক দাস ও লক্ষণ দাস বাউলকে সম্মান জানানো হয়।

শুধুমাত্র অনুব্রতর ছবিই নয়, জয়দেবের মূল রাধামাধব মন্দিরের পাশেই দেখাগেল তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএমে পতাকা। রয়েছে নানা রাজনৈতিক স্টলও। এই বিষয়ে সিপিএম-এর বীরভূম জেলার সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, “রাজনীতি অচ্ছুৎ নয়, তাই মন্দিরের পাশে থাকলে কোনও অসুবিধা হবে না। যেখানে বহু মানুষের জমায়েত হবে সামনের লোকসভা ভোটের প্রচার সেখান থেকেই হবে”।

মেলায় অনুব্রতর ছবি নিয়ে কটাক্ষ বিজেপির  

জেলবন্দি হয়েও মেলায় অনুব্রত মণ্ডলের ছবি থাকাকে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সব জায়গায় রাজনীতি করতে ভালবাসে। ওরা বাড়িতে বাড়িতে বিভেদ লাগিয়েও রাজনীতি করে। এই পুণ্য ধামও বাদ দেয়নি তারা”। তিনি এও বলেন যে যতই অনুব্রত মণ্ডলের ছবি লাগানো হোক না কেন, অনুব্রত মণ্ডল যে ‘চোর’ তা সবাই জেনে গিয়েছে।

RELATED Articles