গত কিছু মাস ধরেই শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন দলেরই নেতা-বিধায়করা। শেষ কিছুদিনে তৃণমূল ছেড়েছেন দলের বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতা-বিধায়কেরা। এঁদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেইজন্য সবরকমভাবে সামাল দিতে উদ্যোগী তৃণমূল। সেই কারণেই ডায়মন্ড হারবারের বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদারের সঙ্গে বৈঠক করতে সেখানে ছুটলেন তৃণমূল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কর্মীরা।
দীর্ঘদিন ধরেই দীপকবাবু অভিযোগ তুলছেন যে তাঁকে নাকি কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ২০১৬ সালে তিনি বিধায়ক পদ পেয়েছেন। কিন্তু তারপরেও তাঁরই দলের একাংশ তাঁর কাজে বাঁধার সৃষ্টি করছে। এই নিয়ে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন দীপকবাবু। আবার অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবী, দীপকবাবু নাকি দলের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগই রাখেন না।
শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময়ও মুখ খুলেছিলেন দীপক হালদার। তখন গুঞ্জন উঠে যে তিনিও নাকি দল ছাড়ছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কিন্তু গত ২৭শে ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশের দিন দীপকবাবুর দেখা মেলেনি। এর জেরে তাঁকে নিয়ে ফের একপ্রস্থ জল্পনা শুরু হয়।
এই সংশয় কাটাতেই গতকাল মঙ্গলবার তড়িঘড়ি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার সদস্যেরা বৈঠক করেন দীপক হালদারের স্নগে। জানা গিয়েছে প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠক করেন দুইপক্ষ। তবে বৈঠকে কী কোথা হয়েছে, এই নিয়ে কেউই মুখ খোলেননি।
এই বিষয়ে দীপকবাবু বলেন তিনি ১৯৮৫ সাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়ে রয়েছেন। তবে তিনি এও স্পষ্ট জানান যে, তিনি তৃণমূলেই ছিলেন আর তৃণমূলেই থাকবেন। প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার সঙ্গে তাঁর কী কথা হল প্রশ্ন করায় তাঁর সাফ জবাব, “সেটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার”।
এই বিষয়ে কোনও কোথা না বললেও জল্পনা জিইয়েই রাখলেন দীপকবাবু। তিনি বলেন যে তিনি ফের ভোটে দাঁড়াবেন কী না, তা তিনি পড়ে ভেবে দেখবেন। তাঁর কথায়, “বিধায়ক হয়ে জসি মানুষের কাজই না করতে পারি, তাহলে তাদের কী জবাব দেব?” তিনি আদৌ রাজনীতি করবেন কী না, তা ঠিক করবে ১৫ই জানুয়ারির পর, একথাও জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক।





