পরিস্থিতি যে খানিকটা এমন হতে পারে, তা আগেই আন্দাজ করা হয়েছিল, এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। রাজ্য সরকার ঘোষণা করলেও ভাতা মিলছে না পুরোহিতদের। ভাতা পেতে গেলে নাকি তৃণমূলের অনুগামী হতে হবে। একথা বলেই আটকে রাখা হয়েছে ভাতার টাকা। এমনই অভিযোগ করলেন মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের পুরোহিতদের একাংশ।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ৮,০০০ পুরোহিতদের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এমনকি, মাসপ্রতি ১০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি গৃহহীন পুরোহিতদের ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে আরও নাম জমা পড়লে তাও বিবেচনা করার কথা নির্দিষ্ট করেন তিনি।
এই সময়ই, বিজেপি তরফ থেকে দাবী উঠেছিল যে এই ব্যবস্থায় নিশ্চয় কোনও না কোনও দুর্নীতি তো হবেই। আর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। মালদার ১ নম্বর ব্লকের পুরোহিতরা অভিযোগ তোলেন যে, নির্দিষ্ট যোগ্যতামানে উত্তীর্ণ হলেও তাঁরা ভাতা পাচ্ছেন না। ভাতার জন্য আবেদন করার পরও তাদের টাকা আটকে রেখেছে তৃণমূল, এমন দাবীও তোলেন তাঁরা। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিডিও অফিসের সামনে বঙ্গীয় পুরোহিত সভা নামে একটি সংগঠন বিক্ষোভ দেখায়।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী বলেন যে পুরোহিতের ভাতা নিয়ে স্বজনপোষণ করছে তৃণমূল। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তৃণমূলে নাম না লেখালে ভাতা দেওয়া হবে না। এখনও পর্যন্ত ১৯৭ জন ভাতার জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু কেউই ভাতা পাননি।
এদিকে, তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস বলেন যে, কিছু কিছু জায়গায় পুরোহিতেরা ভাতা পেটে শুরু করেছেন। কিছু জায়গায় এখনও বাকী রয়েছে। দ্রুতই সেসব জায়গাতেও সব পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। এই বিষয় নিয়ে তৃণমূলকে শানাতে ছাড়েনি বিজেপি। এই বিষয়ে দলের স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি রাজ্য সরকারকে ‘ধাপ্পাবাজের সরকার’ বলে দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তা পালন করতে পারেন না। এমনকি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পুরোহিত ভাতা দেবে বলেও দাবী করেন তিনি।





