পুষ্পা স্টাইলে চুরি! কোটি কোটি টাকার লাল চন্দন কাঠ ডুয়ার্স থেকে ভুটানে পাচারের চেষ্টা, পুলিশের জালে দুই পাচারকারী

বাস্তব না সিনেমা, ধরতে পারবেন না। মেডিক্যাল ভ্যানে করে লাল চন্দন কাঠ পাচারের চেষ্টা চলছিল। এর বাজারদর কোটি কোটি টাকা। লকডাউনের সময় এই চন্দন কাঠ ডুয়ার্সে মজুত করে রাখা হয় বলে খবর। ভুটানে এই লাল চন্দন কাঠ পাচারের চেষ্টা চলছিল। তবে পাচারকারীদের পরিকল্পনা বানচাল কের অভিযান চালিয়ে দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ ও বন দফতরের আধিকারিকরা।

গত বৃহস্পতিবার ডুয়ার্সের তেলিপাড়া থেকে পুষ্পা গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জেরা করে কোচবিহারের এক গোপন ডেরার সন্ধান মিলেছে। সেখান থেকেই লাল চন্দন কাঠ পাচারের চেষ্টা চলছে বলে খবর। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে কয়েক কুইন্টাল কাঠ বাজেয়াপ্ত করেছে। এইসব কাঠের বাজার দর কোটি কোটি টাকা। সাতদিনের পুলিশ হেফজতে নেওয়া হয়েছে ধৃতদের।

পুলিশ ও বন দফতর সূত্রে খবর, ডুয়ার্সের তেলিপাড়া থেকে দুই লাল চন্দন কাঠ কারাবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন যে ভুটানের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে এই লাল চন্দন কাঠ নিয়ে লেনদেনের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

তবে পুলিশের অনুমান, এই একটা ডেরাই নয়, ডুয়ার্স ও এর সংলগ্ন এলাকায় আরও অনেক লাল চন্দন কাঠ পাচারের এমন ঘাঁটি রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির সময় মেডিক্যাল ভ্যানে করে দক্ষিণ ভারত থেকে এও লাল চন্দন কাঠ এনে এসমস্ত ডেরায় মজুত করে রাখা হয়েছে। অনেক মাথাই জড়িত এই পাচারের সঙ্গে। আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের সঙ্গেও এদের যোগাযোগ থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের সহকারি সরকারি আইনজীবী মৃন্ময় বন্দোপাধ্যায় বলেন, “বন দফতর অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করে দু দফায় মোট ১৩১টি লাল চন্দন কাঠের লগ উদ্ধার করেছে। আশঙ্কা এদেরকে হেফাজতে নিলে আরও অনেক তথ্য উঠে আসবে। আরও চন্দন কাঠ উদ্ধার হবে”।

মনে করা হচ্ছে, ধৃতদের জেরা করলে এই বিষয়ে আরও অনেক তথ্য মিলবে। গতকাল, শুক্রবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। সেখানে বন দফতরের তরফে আবেদন জানানো হয় যাতে ধৃতদের জেরা করার জন্য তাদের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে বলে খবর।

আরও অন্যান্য খবর