ভাঙড়ে পুলিশের উপর তাণ্ডব! জমি বিবাদ থেকে রণক্ষেত্র, রাস্তায় ফেলে চড়–কিল–ঘুষি অভিযানে চরম চাঞ্চল্য

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। আগে মালদা, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ভাঙড়! জমি নিয়ে বিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা, যার রেশ গিয়ে পড়ল আইনশৃঙ্খলারক্ষী বাহিনীর উপর। পুলিশের কর্তব্যরত কনস্টেবলকে ঘিরে ধরে চড়–কিল–ঘুষি মারার অভিযোগ উঠল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ঘিরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পোলেরহাট থানার নাটাপুকুর এলাকায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। একাধিকবার ছোটখাটো বচসা হয়েছে, কখনও স্থানীয় নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলেছে, কখনও বা পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু এবার সেই বিবাদ রক্তক্ষয়ী রূপ নিল। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে পারছেন না, একটা জমি সংক্রান্ত বিরোধ কীভাবে পুলিশের উপর হামলার মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল! ঘটনার পর গোটা গ্রাম জুড়ে চাপা আতঙ্ক। পুলিশ কি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করবে? নাকি হামলাকারীরা ছাড়া পেয়ে যাবে?—এমনই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে।

এবার আসা যাক আসল ঘটনায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটাপুকুর এলাকায় নাসিরুদ্দিন মোল্লা এবং তৌফিক মোল্লা–সহ দুটি পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদ আরও বেড়ে গেলে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। লাঠি, রড নিয়ে মারামারি শুরু হয়, আহত হন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পুলিশের উপর চড়াও হয় একদল উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, বিক্ষোভ বাড়তে থাকে।

আর পড়ুনঃ আইপিএল না ‘রেন প্রিমিয়ার লিগ’? ইডেনে প্রথম ম্যাচ ঘিরে দোলাচলে ক্রিকেটপ্রেমীরা!

হঠাৎই জনতার একাংশ পুলিশের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, সুশান্ত ঘোষ নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে রাস্তায় ফেলে চড়–কিল–ঘুষি মারা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ আরও বাড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তা অবরোধের হুমকিও দেয়।

এই ঘটনার পর বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় নামানো হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে, তবে অভিযোগ উঠছে—এক অভিযুক্তকে গ্রামবাসীরা পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পোলেরহাট থানা এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles