তৃণমূলের আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ অফিসার, দীর্ঘ বক্তৃতাও দিলেন আইসি, বিতর্ক তুঙ্গে

ছিল রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান। দুই বাঙালি মনীষীর পাশাপাশি ব্যানারে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ ও মলয় ঘটকেরও ছবি। আর সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেল আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি কৌশিক কুন্ডুকে। মঞ্চে উঠে বক্তৃতাও দিলেন তিনি। আর তা নিয়ে ছড়াল প্রবল বিতর্ক। একযোগে তোপ দাগলেন সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেস।

তৃণমূলের তরফে আসানসোলের মহিশীলা এলাকায় একটি রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক থেকে শুরু করে তৃণমূলের আসানসোলের নেতৃত্বরা। সেই অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রণ পেয়ে উপস্থিত হন আসানসোল দক্ষিণ থানার আইসি কৌশিক কুন্ডুও।

শুধু উপস্থিতিই নয়, সংবর্ধনাও নেন তিনি। এমনকি, অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ভাষণও দিয়েছেন পি আইসি। যদিও ভাষণে কোনও রাজনৈতিক কথা বলেন নি তিনি। নিজের চাকরি জীবন, পুলিশ পেশা এবং বাইরের শহর থেকে এসে আসানসোলকে তার ভালোবেসে ফেলার গল্পই মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেন ওই আইসি।

তবে তৃণমূলের তরফে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইসি-র উপস্থিতি ও বক্তৃতা নিয়ে কটাক্ষ করেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “বেশ সুন্দর কথা বলেন কৌশিক কুন্ডু। কিন্তু তৃণমূলের মঞ্চে উঠে উনি সংবর্ধনা নিলেন, ভাষণ দিলেন। তাতে সাধারণ মানুষ কি ভাবল? উনি কি আর নিরপেক্ষ হয়ে মানুষের কাজ করতে পারবেন? উনি নাকি বলেছেন বিষয়টি যেহেতু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাই তিনি ওখানে গিয়েছেন। আগামী দিনে বিজেপি যদি এ রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাহলে, কৌশিক বাবু আমাদের অনুষ্ঠানেও আসবেন তো”?

অন্যদিকে, এই বিষয়ে সিপিআইএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ তৃণমূলের মঞ্চে উঠলে নিরপেক্ষতা থাকে না। মানুষ এটা মেনে নিয়েছে যে পুলিশ তৃণমূলের দলদাস। দক্ষিণ থানার আইসি এই ঘটনায় সেই অভিযোগ আবারও প্রমান করে দিলেন”।

প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদকের এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ, “তৃণমূল নেতারা পুলিশকে বোম মারুন বলেন। তৃণমূলের হামলায় টেবিল তলে পুলিশ লুকায়। সেই পুলিশই তৃণমূলের মঞ্চে। এই ঘটনা নিন্দনীয়”।

তবে আইসি কৌশিক কুন্ডুর কথায়, এটি কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল না। রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকার জন্যই তিনি যোগ দিয়েছিলেন। ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর এই অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু জানেন না বলে দাবী তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে তৃণমূল কাউন্সিলর ওই অনুষ্ঠানে ডাক পাননি।

আরও অন্যান্য খবর