আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য। চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। কর্মবিরতি তুলে নিলেও নিজেদের দাবীতে অনড় থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অনশন শুরু করেছেন তারা। জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সিনিয়ররাও। এবার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কী কোনও পদক্ষেপ নেবে কলকাতা পুলিশ।
ধর্মতলায় জুনিয়র চিকিৎসকদের এই ধর্নায় অনুমতি দেয় নি কলকাতা পুলিশ। ধর্মতলায় যে জায়গায় জুনিয়র চিকিৎসকরা ধর্নামঞ্চ বেঁধেছেন, সেখানে গোটা বছরই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ১৬৩ ধারা জারি থাকে। সেখানে একসঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে জুনিয়র চিকিৎসকরা সেই নিষেধাজ্ঞা উলঙ্ঘন করায়, তাদের বিরুদ্ধে কী কোনও পদক্ষেপ করবে কলকাতা পুলিশ? কী জানাচ্ছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা?
গত শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় জুনিয়র চিকিৎসকরা। শনিবার লালবাজারের তরফে তাদের মেইল করে ধর্না তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। বলা হয়েছিল, পুজোর সময় ধর্না করলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে। যান নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে বলে দাবী করেছিল পুলিশ। তবে সেই নির্দেশ মানেন নি জুনিয়র চিকিৎসকরা।
সেই নির্দেশ না মানার জন্য কী তাহলে পুলিশ জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেবে? এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। আজ, সোমবার পুজো উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এদিন সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে”।
জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের এই অনশনে সামিল হয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরাও। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আগেই সমালোচনা করেছিলেন সিনিয়র চিকিৎসক অনির্বাণ চৌধুরী, বাসববিজয় সরকাররা। চিকিৎসক ডক্টর অনির্বাণ চৌধুরী বলেছিলেন, “আরজি করের পরও অনেকগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। অথচ সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে সবাই পুজো নিয়ে ব্যস্ত। এটা নিয়ে প্রশাসনের কোনও মাথাব্যাথা নেই। ফলে বিচার পেতে হলে আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে”।
আরও পড়ুনঃ মত্ত অবস্থায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুন করেছে সঞ্জয় রায়ই, ৫৫ দিনের মাথায় প্রথম চার্জশিট পেশ করে দাবী সিবিআইয়ের
আবার বাসববিজয় সরকার বলেন, “আরজি করের যে ছাত্রীটিকে হত্যা করা হল, এরা তো তার ন্যায় বিচার চাইছে। ওরা যে ১০ দফা দাবির কথা বলেছে, সেগুলো প্রত্যেকটা ন্যায্য।পুলিশ যা ভূমিকা তাতে কি ধরে নেব এই সরকার, এই পুলিশ ন্যায়ের বিরুদ্ধে”? এবার পুলিশ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয় কী না, এখন সেটাই দেখার!





