কৃষ্ণনগরের তরুণীর মৃত্যু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে রহস্য। কীভাবে মৃত্যু হল তরুণীর, তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা চলছিল। সকলের নজর ছিল তরুণী ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে। এবার প্রকাশ্যে এল সেই রিপোর্ট। রিপোর্টে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই খবর। তাহলে কীভাবে মৃত্যু হল তরুণী, তা নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য।
তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শরীরে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। কোনও আঘাত নেই শরীরে। রিপোর্ট বলছে, আগুন লাগার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণী। তাঁর শ্বাসনালীতে মিলেছে কার্বন। অর্থাৎ আগুন লাগার সময় জীবিত ছিলেন তরুণী। কেরোসিন জাতীয় কিছু ঢেলে আগুন লাগানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, তরুণী শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চুল, হাত-পা, মুখের বেশিরভাগ অংশ পোড়া ছিল। তবে সে নিজেই শরীরে আগুন লাগিয়েছে, নাকি অন্য কেউ আগুনে পুড়িয়ে তাঁকে মেরে ফেলেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, যেখানে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, সেখান থেকে মিলেছে কেরোসিনের বোতল। সেই বোতলের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ দল। জানা যাচ্ছে, আদালতের কাছে প্রশাসন আবেদন জানাবে যাতে এই ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণীর প্রেমিকের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে ওই বোতলের আঙুলের ছাপের সঙ্গে মেলানো যায়।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার কৃষ্ণনগরের আশ্রমপাড়া এলাকায় এক মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছ থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণীর অর্ধনগ্ন ও অর্ধদগ্ধ দেহ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যায় তরুণী পরিচয়। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আঙুল তোলা হয় তরুণীর প্রেমিকের দিকে। সেই অভিযুক্ত রাহুল বসুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ ‘মাওবাদীরাও বলে আমরা প্রতিবাদের জন্য মানুষ মারি, এরাও তেমনই…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের এবার মাওবাদীদের সঙ্গে তুলনা করলেন দেবাংশু
তরুণীর পরিবারের তরফে যদিও জানানো হয়েছিল, পুলিশে তাদের আস্থা নেই, তারা সিবিআই তদন্ত চান। পুলিশের তরফে যদিও প্রথম থেকেই দাবী করা হয়েছিল যে এটি ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা নয়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হয় তরুণী ময়নাতদন্ত। এবার সেই রিপোর্টে জানা গেল, ধর্ষণ করা হয়নি তরুণীকে।





