প্রার্থীতালিকা নিয়ে দলের মধ্যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, তৃণমূলের হয়ে আর ভোটকুশলীর কাজ না করার ইচ্ছাপ্রকাশ পিকের, কী জানালেন সুব্রত-পার্থরা?

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে তা দেখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কথা এমনই ছিল, কিন্তু সারাদিন ধরে অপেক্ষা করার পরও তাঁর হাতে পৌঁছল না। এরপর শুক্রবার যে তালিকা প্রকাশ হল, তা তৃণমূল নেত্রীর কাছে পাঠানোই হয়নি। তাঁকে অন্ধকারে রেখে কেন এই কাজ করা হল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এই ঘটনায় দলের ভোট পরামর্শদাতা আইপ্যাক সংস্থাকে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশ্নের মুখ পড়তে হয়েছে। গত দু’বছর ধরে দলের প্রচারের মাধ্যমগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে আইপ্যাক। এই কারণেই বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের দায়িত্ব আইপ্যাকেরই হয় বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সেই দায় নিতে নারাজ প্রশান্ত কিশোর।

তৃণমূল সুপ্রিমো প্রধানত তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপরেই পুরভোটের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা তৈরির দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। নানান জেলা থেকে তাঁদের কাছে যে তালিকা জমা পড়ে, তার ভিত্তিতে তাঁরা কাজ করছিলেন। পাশাপাশি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কাছ থেকেও তালিকা আসে। মমতার নির্দেশে স্থির হয়, এই দুই তালিকা বিভচার করেই চূড়ান্ত তালিকা স্থির করা হবে। তবে তা প্রকাশের আগে তৃণমূলনেত্রী নিজে তা দেখবেন।

সেই অনুযায়ীই, আইপ্যাকের সঙ্গে কথা বলে প্রার্থী তালিকা তৈরি করে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানোর জন্য কম্পিউটারে তুলে দেওয়া হয় এবং তা দলনেত্রীকে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় আইপ্যাক সংস্থাকেই। কিন্তু ৩রা ফেব্রুয়ারি দুপুরেও এই তালিকা পান নি মমতা। গত শুক্রবার দুপুর পর্যন্তও এই তালিকা পান নি দলেনেত্রী।

সূত্রের খবর, এরপর বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই মমতা সুব্রত বক্সী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিতে বলেন,। এরপর শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক হয়। কিন্তু দেখা যায় তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হওয়া তালিকার থেকে আলাদা আর তাতে কোনও নেতার স্বাক্ষরও নেই। এই নিয়ে দলনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তার পরেই ফোনে কথা বলেন প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেও। পার্থ এবং বক্সী উভয়েই পিকে’র কাছে জানতে চান, তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে এরকম একটি তালিকা কেন প্রকাশ করা হল? জানা গিয়েছে, উভয় তরফে কিছুটা বাদানুবাদও হয়। তখনই আইপ্যাকের তরফে বলা হয়, তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজের দায়িত্ব তাদের নয়। এক সময় আইপ্যাক পরামর্শদাতার কাজ থেকে সরে আসতে পারে বলেও কথা ওঠে।

সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতৃত্ব তখন পাল্টা বলেন, “এ সব কথা তাঁদের শুনিয়ে লাভ নেই। সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মমতা”। সেই সঙ্গে আইপ্যাক- কর্তাকে এও জানিয়ে দেওয়া হয়, “তৃণমূলে এ কাজ অকল্পনীয়। আরও অনেকেই আছেন। তবে মমতাই এই দলের নেত্রী। তাঁকে না জানিয়ে এই রকম গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে কখনও কেউ করেনি”। এরপরই পার্থবাবু সংবাদমাধ্যমে জানান, সঠিক তালিকা জেলাগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে শনিবার রাত পর্যন্তও প্রথম প্রকাশিত সেই বিতর্কিত তালিকা তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে রয়ে গিয়েছে। এই নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। তবে সুব্রত ও পার্থর স্বাক্ষর করা সঠিক তালিকা নিয়েও তৃণমূলের নানান স্তরে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। প্রার্থী না হতে পারার কারণে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের তরফে বিক্ষোভ, অবরোধ করা হয়। তবে এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

RELATED Articles