উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে ১৮টির বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি। আসনের সেই মন্দা দূর করতে প্রশান্ত কিশোরকে ভোটকুশলী হিসেবে দলে নিয়োগ করেছিল তৃণমূল। সামনে ফের লোকসভা ভোট। এবার ফের একবার বাংলা নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করলেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর কথায়, গতবারের তুলনায় এবারে বাংলায় বিজেপির আসন সংখ্যা কমবে না।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের হয়ে ভোট কুশলীর কাজ করেছেন প্রশান্ত কিশোর। সেই সময় অমিত শাহ থেকে শুরু করে নানান বিজেপি নেতারা বলেই দিয়েছিলেন বাংলায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসন পাবে। কিন্তু প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, বিজেপি যদি বাংলায় দুই অঙ্কের বেশি সংখ্যার আসন পার করতে পারে, তাহলে তিনি ভোট কুশলীর কাজ ছেড়ে দেবেন। প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যৎবাণীই সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল। একুশের নির্বাচনে বিজেপির চাকা ৭৭-এই আটকে যায়।
সম্প্রতি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর কথায়, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মতো লোকসভা নির্বাচনকে বিচার করলে ঠিক হবে না। তিনি জানান, “সন্দেশখালির মতো ঘটনা যখন ঘটে, যে যাই বলুক না কেন, শাসক দলের ক্ষতি হয়ই। তবে সন্দেশখালির মতো ঘটনা ঘটুক বা না ঘটুক এটা বাস্তব যে বাংলায় বিজেপি এখন বাড়ছে”।
প্রশান্ত কিশোরের কথায়, “দিল্লিতে বসে অনেকে ভাবছেন বাংলায় বিজেপি খতম হয়ে গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও ভুল ভাবনা রাখবেন না। বিজেপি এখন বাংলায় খুব মজবুত একটা রাজনৈতিক শক্তি। এবং গত ১২-১৩ বছর সরকারের থাকার ফলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা যেরকম উত্তরোত্তর বাড়ছে, তার ফলে তাদের জমি ধরে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে”।
বেশ স্পষ্টভাবেই প্রশান্ত কিশোর বলেন, “এই সব কারণেই মনে করছি যে উনিশের ভোটে বিজেপি বাংলায় যত আসনে জিতেছিল, তার থেকে কমবে না। বিধানসভা ভোটের তুলনায় বিজেপি বাংলায় অনেক ভাল ফল করবে। বেশ ভাল ফল করবে”।
উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রশান্ত কিশোর সরাসরি তৃণমূলের ভোট কুশলী হিসেবে কাজ করেন না ঠিকই। তবে তাঁর সংস্থা আইপ্যাক এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই যুক্ত। লোকসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের এহেন মন্তব্য শাসক দলকে নে বেশ অস্বস্তির মুখে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।





