ভারতীয় রাজনীতিতে বেশ ডিমান্ডিং তিনি। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন ‘বিহারী’ প্রশান্ত কিশোর। পিকের একের পর এক সাফল্য নজর কেড়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে চূড়ান্ত খারাপ ফল করার পর তৃণমূল সুপ্রিমো ডাক পারেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে। বাংলায় ঢুকেই ,’মাস্টার স্ট্রোক’! জনসংযোগ বাড়াতে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম পদক্ষেপ ‘দিদিকে বলো’!
কিন্তু বাংলায় লোকসভা থেকেই নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করেছিল বিজেপি। তৃণমূলের থেকে কোনও অংশে এখন শক্তিতে পিছিয়ে নেই গেরুয়া শিবির। উল্টে সেখানে জাহাজ দুলছে তৃণমূলেরই! একাধিক তৃণমূল নেতার দল পরিবর্তনে ধার কমছে শাসকদলের।যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করছেন সেখানে খোদ তৃণমূলের ভোট কৌশলীই ‘বহিরাগত’! বেশিরভাগ তৃণমূল নেতার ক্ষোভের কারণও তিনিই! ‘দিদিগিরি’ চলতে পারে কিন্তু বাংলায় বিহারি প্রশান্ত কিশোরের ‘দাদাগিরি’ মানতে নারাজ তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা। আর এতেই চলছে দলে ভাঙন।
আরও পড়ুন-WB Election 2021: চমকে ভরা বিজেপির ব্রিগেড, ৭ই মার্চ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন শতাব্দী রায়!!
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঠিক যতটা গুরুত্বপূর্ণ ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের কাছে! মানসম্মানের ব্যাপার! যে বিজেপির সঙ্গ ধরে উত্থান সেই বিজেপির সামনে মাথা নোয়াতে নারাজ পিকেও!
আর তাই এবার ফের গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তিনি, বিজেপি বাংলায় ১০০টিরও বেশি আসন জিতলে রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসাবে আর কাজ করবেন না। তিনি এই কাজ থেকে অব্যহতি নেবেন বলে ঘোষণা করলেন।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর জানান, ‘বিজেপি যদি বাংলায় ১০০টির বেশি আসন জিততে পারে তবে আমি এই কাজটি ছেড়ে দেব। আমি আই প্যাকও ছেড়ে দেব। আমি অন্য কিছু করব, তবে ভোট কৌশলী বা প্রচার পরিকল্পনার কাজ আর করব না। আমি এই কাজ বন্ধ করে দেব।
পিকে আরও বলেন, ‘আমি উত্তরপ্রদেশে সাফল্য পাইনি, কিন্তু সেখানে আমরা যা চেয়েছিলাম, তা করতে পারিনি। তবে বাংলায় আমার কাছে এই অজুহাত নেই এবং দিদি আমাকে যতটা ইচ্ছা কাজ করার স্বাধীনতা দিয়েছে। আমি যদি বাংলায় তৃণমূলকে না জেতাতে পারি, বিজেপিকে না হারাতে পারি, তবে আমি মনে করব যে, আমি এই কাজের জন্য উপযুক্ত নই।
তবে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী প্রশান্ত কিশোর জানান, যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফের বাংলায় ক্ষমতায় ফিরে আসবেন।