গর্ভাবস্থায় করোনা আক্রান্ত মা, দুই সরকারি হাসপাতাল ঘুরে সন্তান-সহ মৃত্যু বছর একুশের প্রসূতির

করোনা (CoronaVirus) পরিস্থিতি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা বারবার তুলে ধরছে। করোনা আবহের মাঝেই ‘মা’ হচ্ছেন অনেকেই। তবে এই ক্ষেত্রে ঘটনাটা ছিল একটু অন্যরকম।

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই করোনা (Coronavirus) আক্রান্ত হয়েছিলেন মা। চিকিৎসার জন্য আরজিকর হাসপাতাল (RG Kar Hospital) থেকে চলে আসতে হয় রাজ্যের করোনা হাসপাতাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে (Kolkata medical college)। এরপর শুরু হয় যমে-মানুষে টানাটানি। দশদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সন্তান-সহ মৃত্যু হল বছর একুশের ওই প্রসূতির। আর এই ঘটনার পুরো দায় গিয়ে পড়েছে রাজ্যের দুই সরকারি হাসপাতালের ঘাড়ে। মৃত ওই প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, গর্ভস্থ সন্তানকে সঠিক সময় বের করে আনলে অন্তত মাকে বাঁচানো যেত।

হাসপাতালের গাফিলতিতেই চলে যেতে হলো বছর একুশের তাজা একটি প্রাণকে। দমদমের বাসিন্দা মৃত ওই তরুণীর নাম মৌসুমী রায় (Mousumi Roy)। অন্তঃসত্ত্বা (Pregnant) মৌসুমী প্রসব বেদনা নিয়ে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও অস্ত্রোপচারের আগে করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক। সেইমতো ৫ তারিখ ওই তরুনীর করোনা টেস্ট করলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। স্থায়ী কোভিড হাসপাতাল না হওয়ায় রোগীকে সত্ত্বর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রেফার করে দেওয়া হয়। ৯ই সেপ্টেম্বর রোগীকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। ততদিনে মারা গিয়েছে পেটের শিশুটি।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় শিশুর মৃত্যু হলে ‘ইনডাকশন পদ্ধতি’ (Induction system) তে তাকে বের করে আনাই নিয়ম। এই পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশন দিলে যোনিপথ দিয়েই মৃত শিশু বেরিয়ে আসে। মৌসুমীর ক্ষেত্রেও সেইভাবেই মৃত বাচ্চাটিকে বের করে আনা হয় কলকাতা মেডিক্যালে।

আর এরপর‌ই তরুণীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। কমতে থাকে অক্সিজেনের মাত্রা। রবিবার সকালে অকাল মৃত্যু হয় একুশ বছরের ওই তরুণীর। গোটা ঘটনায় তাঁর পরিবার দুই হাসপাতালের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তরুণীর পরিবারের দাবি, “আরজিকর থেকে আমাদের বলা হয়েছিল মা কোভিড পজিটিভ। এই সময় বাচ্চার ডেলিভারি করা হলে সেও করোনা আক্রান্ত হতে পারে। আমরা বারবার বলেছিলাম বাচ্চা না বাঁচলেও দয়া করে মাকে বাঁচিয়ে দিন। কিন্তু ওরা চিকিৎসা না করে মেরে ফেলল।”

তবে হাসপাতাল জানাচ্ছে, করোনার সঙ্গে সঙ্গে জন্ডিস বাসা বেঁধেছিল তরুণীর শরীরে। একাধিক অঙ্গ কাজ করছিল না তাঁর। প্রশ্ন উঠছে কেন গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীকে রেফার করে দিল আরজিকর? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “আরজিকর নন কোভিড হাসপাতাল। তবে আইসোলেশন ওয়ার্ড আছে। রয়েছে একটি আইসোলেশন অপারেশন থিয়েটার। গুরুতর অসুস্থ কোনও রোগীকে আরজিকরের এই আইসোলেশন অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার করানোই দস্তুর। এই তরুণীর ক্ষেত্রে কেন সেটা হল না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

রাজ্যের করোনা হাসপাতাল বলে পরিচিত, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তরুণীকে যখন এখানে আনা হয় ততক্ষণে মারা গিয়েছে জঠরের সন্তান।

RELATED Articles

Leave a Comment