কিছুদিন আগেই এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল মালদহের বামনগোলা এলাকায়। এবারও সেই পথেই মৃত্যু ঘটল রোগীর। পরিবারের দাবী, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে রাস্তা কাটা ছিল। সেই কারণে অনেকটা ঘুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয় তাদের। সেই কারণেই মৃত্যু হয়েছে রোগীর। যদিও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার জয়পুরে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতার নাম তাপসী মণ্ডল। হুগলির গোঘাট থানার হরিসভা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাপের বাড়ি কোতুলপুর থানার দান্ডে গ্রামে। তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, গতকাল, শুক্রবার গভীর রাতে বেশ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাপসীর। তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটের সামনে তোরণ তৈরির জন্য পঞ্চায়েত সমিতির তরফে রাস্তা কাটা হয়েছিল। সেই কারণে অনেকটা ঘুরে যেতে হয় তাদের। আর এই কারণেই পথে মৃত্যু হয় প্রসূতির, এমনটাই দাবী তাঁর পরিবারের। যদিও পঞ্চায়েত সমিতির দাবী, তোরণ তৈরির জন্য রাস্তা কাটা ছিল বটে কিন্তু পাশেই একটা রাস্তা ছিল। কিন্তু সেটা দিয়ে প্রসূতিকে নিয়ে আসা হয়নি।
কী বলছে মৃতার পরিবার?
মৃতার পরিবারের দাবী, “চিকিৎসার জন্য ওকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গ্রাম থেকে গাড়িতে আসার সময়ে জয়পুরে তোরণ তৈরির জন্য রাস্তা কাটা ছিল। তাই গাড়ি ওই রাস্তায় যেতে পারেনি। প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরপথে গিয়ে রাস্তা পেয়েছিলাম। তখন প্রসূতির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন ছিল না। জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে জানিয়ে দেন। রাস্তা কাটা না থাকলে সময় মতো আমরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম। রোগী অক্সিজেন পেত। হয়তো বেঁচে যেত”।
যদিও পরিবারের দাবী মানতে নারাজ জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শেখ জাকির। তাঁর কথায়, “তোরণ তৈরির জন্য রাস্তা কাটা হয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু পাশেই তো আর একটা রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তায় সহজেই ছোট গাড়ি যেতে পারত। চালক ঘুরপথে গিয়েছে। তাই সামান্য দেরি হয়েছে। তবে আমরা জেনেছি ওই প্রসূতির শারীরিক অবস্থা তাঁর বাড়িতেই শুক্রবার রাত থেকে আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। তাঁর পরিবারের লোকজন চিকিৎসায় দেরি করায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য রাস্তা কাটা থাকা দায়ী নয়”।
অন্যদিকে, জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তাঁর পরিবারের লোকজন অনেক দেরি করে তাঁকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন। আসার সময় গাড়িতেই মৃত্যু হয় প্রসূতির।





