সরগরম বঙ্গ রাজনীতি! ভোটের মুখে বাক্ যুদ্ধ, টুইট যুদ্ধ বঙ্গ রীতিমতো ভয়ঙ্কর যুদ্ধের আবহ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।
শাসক-বিরোধী তরজায় ছয়লাপ রাজনীতির মঞ্চে! বিধানসভা নির্বাচন হতে এখনও তিন চার মাস বাকি! এরই মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জমজমাট ছিল রবিবাসরীয় রাজ্য রাজনীতি। একদিকে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ও হলদিয়ায় মন্ত্রী সুজিত বসু ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল আর সমাবেশ। আর অন্যদিকে মহিষাদলে এক অরাজনৈতিক সভায় উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল সত্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করা শুভেন্দু অধিকারীর।
শুভেন্দুর মন্ত্রিত্ব থেকে পরই তৃণমূলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আই টাটকা তাজা ঘটনাকে নিজেদের অস্থিরতা বানিয়ে নেমে পড়েছে বিরোধী দলও। এই পরিস্থিতিকেই এদিন ‘গৃহযুদ্ধ’ বলে অভিহিত করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
সামনেই বিধানসভা ভোট। আগামী ৭ই ডিসেম্বর থেকে জেলায় জেলায় নির্বাচনী প্রচারে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলায় বিজেপির শক্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঝাঁপাতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বও। বাংলায় ফের আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব বিজেপি কিভাবে দেবে বা রণকৌশলই কি হবে তা জানতে চাওয়ায় কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা কারও পাল্টা করি না। এখন আমাদের পাল্টা করে তৃণমূল। অমিত শাহ বাঁকুড়ায় গিয়ে আদিবাসী বাড়িতে কলাপাতায় খাওয়াদাওয়া করেছেন। আর তার পর তার অনুকরণ করেছেন দিদি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেউ ভাত দেয়নি।’
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসন খোয়ানোর পর ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিদিকে বল থেকে শুরু করে একাধিক কর্মসূচি পিকের মস্তিষ্ক থেকেই বেরোয়। কিন্তু নেতা- বিধায়কদের বিভিন্ন কার্যকলাপে বারংবার পিকের হস্তক্ষেপ ভালো চোখে দেখছে না শাসক দলের একাংশ। ফলে জমছে ক্ষোভ, এক এক করে সবাই ছাড়ছে দল।
দিদি ও পিকে’র এহেন যুগলবন্দিকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘৫০০ কোটি টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে দল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হয়তো এবার কোথাও কোথাও আওয়াজ উঠতে পারে— পিকে হঠাও, তৃণমূল বাঁচাও।’দিলীপ ঘোষের আরও অভিযোগ, ‘বাঁকুড়ার আদিবাসীদের অপমান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে পাঁচতারা হোটেলের বিরিয়ানি এনে অমিত শাহকে খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু আমার জানা নেই যে বাঁকুড়ার কোথায় পাঁচতারা হোটেল রয়েছে কিনা। বিরসা মুন্ডাকেও ওঁরা অপমান করেছেন।’






