‘অন্যায্য দাবী আন্দোলনকারীদের, এভাবে নিয়োগ দেওয়া যায় না’, টেট চাকরিপ্রার্থীদের সাফ জানালেন পর্ষদ সভাপতি

২০১৪ সালে টেট উত্তীর্ণ (TET aspirants) আন্দোলনকারীদের দাবী অন্যায্য। তাদের দাবী আইনসম্মত (illegal) নয়। এভাব কাউকে নিয়োগ করা যায় না। আজ, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল (Gautam Paul)। এর পাশাপাশি তিনি টেট উত্তীর্ণদের অনুরোধ করেন যাতে তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন।

এদিন পর্ষদ সভাপতি বলেন, “নীতিগতভাবে নিয়োগ দেওয়া যায় না। কারণ, ২০১৬ সালের নিয়োগ নীতি আইন মেনেই নিয়োগ করতে হবে। আজকে যারা নন-ইনক্লুডেড ক্যানডিডেট, তাঁরা পর পর দুবার ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা এমপ্যানেলড হননি। এখন আইন মেনেই নিয়োগ করতে হবে। তাই নন-ইনক্লুডদের নিয়োগ দেওয়া যায় না”।

গৌতম পাল আরও বলেন, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাও চাকরির দাবীদার। ১৬,১০১ জনের প্রশিক্ষণ রয়েছে”। তাঁর কথায়, “২০১২ সাল থেকে টেট পাস সকল প্রার্থী যদি বয়স থেকে থাকে, তবে সবাই-ই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আর ৪০ বছর বয়স হয়ে গিয়ে থাকলে, সেক্ষেত্রে বয়সসীমায় ছাড় দিলে তাঁরাও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সেই ছাড় দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। কারণ সেক্ষেত্রে আইন পরিবর্তন করতে হবে”।

বলে রাখি, গতকাল, সোমবার টেট উত্তীর্ণরা করুণাময়ীর মোড়ে প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবী, তাদের অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে। গোটা রাত চলে বিক্ষোভ। আজ সকালে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ তাদের বিক্ষোভ তুলে নিতে বললেও, তাতে কর্ণপাত করেন নি তারা। আজ, মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের নিয়োগ না করা হলে তারা আমরণ অনশন করবেন।  

এই বিষয়ে পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, “কিছু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে। এভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘রাজনীতির অনুপ্রবেশ’ ঘটাবেন না।’ প্রসঙ্গত, এর আগেই গৌতম পাল ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘টেট পাস করা মানেই চাকরি নয়। টেট পাস মানেই চাকরির অধিকার অর্জন করা নয়। টেট একটি যোগ্যতামান নির্ণায়ক পরীক্ষা মাত্র। অতএব ২০১২, ২০১৪ কি ২০১৭ সালে টেট পাস করেছি মানেই আমায় চাকরি দিতে হবে, এমনটা নয়। বোর্ড বিধি মেনে নিয়োগ করবে”।

RELATED Articles