আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর থেকেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে থ্রেট কালচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। নানান মেডিক্যাল কলেজ থেকেই এমন অভিযোগ মিলেছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে স্র-ব হয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের নানান দাবীর মধ্যে এই থ্রেট কালচার বন্ধ করার দাবীও ছিল। এবার শিক্ষাক্ষেত্রেও থ্রেট কালচারের অভিযোগ উঠল। কলকাতার কলেজেই চলছে থ্রেট সিন্ডিকেট।
অভিযোগ, কলেজে বহিরাগত তৃণমূল নেতাদের দাদাগিরি দিনদিন বেড়েই চলেছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দৌরাত্ম্যে কলেজের অধ্যক্ষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তৃণমূলের পতাকা-ব্যানার দিয়ে সিসিটিভি ঢেকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এবার সরব হলেন কলেজের অধ্যক্ষ। সামনে আনলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাদের সব জারিজুরি।
এমন ঘটনা ঘটছে দক্ষিণ কলকাতার যোগেশ চন্দ্র কলেজে, এমনটাই অভিযোগ। একাধিক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে র্যাগিংয়ের অভিযোগ। ইউজিসি-তে সেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে ইউজিসি। এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন কলেজের অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, “শুভম মণ্ডল নামে একটি বহিরাগত ছেলে আমায় বলছে আপনাকে কে অনুমতি দিয়েছে সিসিটিভি লাগানোর? তার কেটে দেওয়া হয়েছে। আমি তার নামে এফআইআর লজ করছি। তিন-বছর, চার বছর আগে রিয়া দেবনাথ পাশ করে গিয়েছে সে এখানকার তোলাবাজের রানি”।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, “একজন অভিভাবক ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন এই কলেজে ছাত্র ভর্তি করবেন না। কারণ এখানে লুম্পেন তৈরি হয়। ইউনিয়ন লুম্পেন তৈরি করে। আমি দেখতে চাই নবান্ন ব্যবস্থা নেয় কি না। যে অভিযোগ ইউজিসি-র কাছে করা হয়েছে তাতে আরজি করের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ‘IT MAY BE RG KAR IN FUTURE’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে এটি আরজি কর হতে পারে। রাত্রি আটটা পর্যন্ত কেউ থাকে না। অন্ধকার। অথচ খোলা থাকে ইউনিয়ন রুম। বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত। এর দায়িত্ব কে নেবে? অধ্যক্ষের নয়। আমার কাছে খবর আছে এখানে সিন্ডিকেটের মিটিং হয় ইউনিয়ন রুমে”।
আরও পড়ুনঃ ডিভিসি-র খামখেয়ালিতেই ডুবেছে বাংলা, নালিশ জানিয়ে মোদীকে চিঠি দিয়ে ডিভিসি-র সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি মমতার
জানা গিয়েছে, কলেজে পুলিশ পাহারা চেয়ে লালবাজারে চিঠি দিয়েছেন যোগেশ চন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ। ইতিমধ্যেই চারু মার্কেট থানার পুলিশ কলেজে পৌঁছেছে বলে খবর। কলেজে পুলিশ প্রহরায় রয়েছে। শুধুমাত্র অধ্যক্ষই নন, কলেজে থ্রেট কালচার নিয়ে সরব এসএফআই-ও। তবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফে এই সমস্ত দাবী নাকোচ করা হয়েছে।





