শহরের বুকে যাঁরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি স্বপ্ন বুনে চলেন, তাঁদের কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা শিক্ষক হবার আশায় লড়ছেন বছরের পর বছর। এই তরুণ-তরুণীরা শুধু নিজেদের স্বপ্ন নয়, পরিবারের স্বপ্নও বহন করেন। মা-বাবার চোখে ভরসার আলো হয়ে তাঁরা সরকারি চাকরির আশা নিয়ে পাড়ি দেন পরীক্ষা কেন্দ্রে, যান ইন্টারভিউ দিতে। কিন্তু যখন সেই স্বপ্ন দীর্ঘ অপেক্ষার গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসে, তখন তাঁদের প্রতিবাদ ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।
কলকাতার করুণাময়ীতে এসএসসি দপ্তরের সামনের রাস্তা গত কয়েকদিন ধরে যেন কোনও নিয়মিত ট্রাফিক জংশন নয়, বরং আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। হাজারো প্রশ্ন, ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা জড়ো হয়েছেন এই অফিস চত্বরে। তাঁদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— “আমরা কি ন্যায্য অধিকার চাইছি না?” সাধারণ মানুষের প্রশ্নও একটাই—কেন বছরের পর বছর পরেও যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না?
তৃতীয় দিনেও দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রাতভর খোলা আকাশের নিচে বসে থেকেও তাঁদের চোখে ঘুম নেই, কণ্ঠে প্রতিবাদের আওয়াজ স্পষ্ট। তবে মঙ্গলবার সকালেই ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা আন্দোলনের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জানা যায়, ওইদিন সকালে এক ব্যক্তি চায়ের ফ্লাস্ক ও মাটির ভাঁড় হাতে নিয়ে এসএসসি অফিসের দিকে এগিয়ে যান। আন্দোলনকারীরা বুঝে যান, এগুলো অফিসে আটকে থাকা চেয়ারম্যান ও কর্মীদের জন্য। সেই মুহূর্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁরা।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণের এই অবরোধ চলাকালীন তাঁদের জন্য কোনও জল বা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি। অথচ ভিতরে আটকে থাকা অফিসকর্মীদের জন্য বাইরে থেকে বিরিয়ানি, পিৎজা, চা—সবই পৌঁছতে দেখা যায়। এই দ্বিচারিতা দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা খাবারের প্যাকেট ফেলে দেন, মাটির ভাঁড় ছুঁড়ে ভেঙে দেন। পরে তাঁরা ওআরএস-এর প্যাকেট হাতে অফিসের সামনে গিয়ে বলেন, “আপনারা জল খান, সুস্থ থাকুন, কিন্তু কাজটা করে দিন। বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই যতক্ষণ না দাবি মানা হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ Weather update : স্বস্তির দিন শেষ! চলতি সপ্তাহেই ফের ঘাম ঝরাবে গরম, সতর্ক করল আবহাওয়া অফিস!
ফলে বর্তমানে চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার সহ প্রায় ২৫ জন কর্মী এসএসসি দপ্তরের ভিতরে আটকে রয়েছেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—চাকরির তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বেরোতে পারবেন না। চরম এই পরিস্থিতির মধ্যেই চলছে রাজ্যের অন্যতম নিয়োগ সংস্থার দৈনন্দিন কার্যকলাপ। শিক্ষা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে এই আন্দোলন ঠিক কোন মোড়ে গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গোটা বাংলা।






