নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে উত্তাল গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা। একদিকে জঙ্গিপুরে রণক্ষেত্রের ছবি, অন্যদিকে বুধবার সেই একই ছবি ফুটে উঠল সুতিতেও। আগুন জ্বালিয়ে, রাস্তা অবরোধ করে, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
গত কয়েকদিন ধরেই মুর্শিদাবাদে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনা। মঙ্গলবার জঙ্গিপুরে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। এবার তার রেশ গিয়ে পৌঁছয় সুতিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া ওয়াকফ আইন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এতটাই বেড়েছে যে, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য হন তাঁরা। পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি বশে আনা গেল না।
এদিন সকালে সুতির রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক স্থানীয় মানুষ। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। তৈরি হয় তীব্র যানজট। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সুতি থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তা ভেঙে এগিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের থামাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
এর আগে মঙ্গলবার জঙ্গিপুরে আরও বড়সড় অশান্তি দেখা গিয়েছিল। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চলে ইটবৃষ্টি। পুলিশের ব্যারিকেডও উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তুমুল সমালোচনা শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় আধা সেনা মোতায়েনের দাবি তোলেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক জাকির হোসেনকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুনঃ Sacked Teachers’ Movement : ঘুষ তো খাবে! কিন্তু ৫০০ নয়, তোদের যোগ্যতা ২ টাকাই… রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশের ‘মূল্য’ ঠিক করল চাকরিহারারা
বুধবার সুতিতে ফের অশান্তির ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কারণ আগেই ওই এলাকায় ১৬৩ নম্বর ধারা জারি করা হয়েছিল। তারপরও কীভাবে এত বড় জমায়েত হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত নয়। ফলে আগামী দিনে ফের অশান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।





