শুনানি চললেও ধৃত সিভিককে আর আনা হবে না আদালতে, আর জি কর মামলায় সঞ্জয়ের জন্য অন্য ব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতেই পদক্ষেপ?

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের মামলা আপাতত বিচারাধীন শিয়ালদহ আদালতে ও সুপ্রিম কোর্টে। তবে চার্জ গঠনের পর শিয়ালদহ আদালতে শুরু হয়েছে বিচার প্রক্রিয়া। বিগত কয়েকদিন ধরেই আর জি কর মামলায় ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে শুনানির জন্য। কিন্তু এবার অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হল তার জন্য।

সূত্রের খবর, জানানো হয়েছে সঞ্জয় রায়ের মতো হাইপ্রোফাইল বন্দিকে প্রতিদিন এভাবে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে শিয়ালদহ আদালতে নিয়ে যাওয়া নিরাপদ নয়। এর জন্য প্রচুর সংখ্যক পুলিশও মোতায়েন করতে হচ্ছে রোজ। সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত সেখানেই ব্যস্ত থাকছে বিশাল বাহিনীর পুলিশ। সেই কারণে এবার সঞ্জয়ের জন্য অন্য ব্যবস্থা।

জানা গিয়েছে, এবার থেকে জেলে বসেই ভারচুয়ালি শুনানিতে অংশ নেবে সঞ্জয়। সেই অনুযায়ী প্রেসিডেন্সি জেলে পরিকাঠামোও তৈরি করা হচ্ছে। আদালতে রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলে বিচার পর্ব। উপস্থিত থাকেন ধৃত, দুই তরফের আইনজীবী ও সাক্ষী। এবার থেকে আদালতে আইনজীবীরা ও সাক্ষী উপস্থিত থাকলেও এখন থেকে জেল থেকেই ভারচুয়ালি শুনানিতে অংশ নেবে।

জেলেও রুদ্ধদ্বার কক্ষেই চলবে বিচার পর্ব। সেখানে শুধুমাত্র ধৃতকে ক্যামেরার সামনে বসানো হবে। সমস্ত কিছুই শুনতে পারবে সঞ্জয়। আর কক্ষের বাইরে পাহারায় থাকবেন কারারক্ষীরা। তবে যে দিনগুলোতে আইডেন্টিফিকেশন অর্থাৎ কোনও সাক্ষীর মাধ্যমে তাঁকে চিহ্নিত করণের ব্যাপার থাকবে, সেদিন ধৃতকে নয়ে যাওয়া হবে আদালতে। নিরাপত্তার কারণেই এমন ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা বলে জানানো হয়েছে।

তবে এমন ঘটনায় উঠছে নানান প্রশ্ন। বিগত কয়েকদিনে ধৃত সঞ্জয়কে আদালতে আনার সময় বা আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় নানান ঘটনা ঘটেছে। কখনও প্রিজন ভ্যান থেকে চিৎকার করে সঞ্জয় বলেছে, তাকে ‘ফাঁসানো’ হচ্ছে, সে নাকি ডিপার্টমেন্টের কথায় এতদিন চুপ ছিল। আবার কখনও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল তাকে ফাঁসিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মমতা চিরকালই পশ্চিমবঙ্গ শাসন করবেন…’, হঠাৎ কেন এমন মন্তব্য বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের? কী চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে? 

তার এমন সব মন্তব্যের জন্য কালো কাছে ঢাকা গাড়ি করে আদালতে আনা হচ্ছিল সঞ্জয়কে। বাড়ানো হয়েছিল পুলিশ প্রহরা। কিছুদিন আগে আবার পুলিশ কর্মীদের জোরে গাড়ি চাপড়াতে দেখা যায়। তীব্র হর্ন বাজানো হয়। আর এরপরই এই ভার্চুয়াল শুনানি সিদ্ধান্ত। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সঞ্জয় এভাবে মুখ খোলার কারণেই কী তাকে জেলে রেখেই শুনানির সিদ্ধান্ত!    

RELATED Articles