‘কুইন্টাল কুইন্টাল জল ছেড়েছে ডিভিসি…’, বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে রচনার মন্তব্যে হাসির রোল নেটপাড়ায়

অভিনেত্রীর পাশাপাশি তিনি এখন সাংসদও। গত লোকসভা নির্বাচনে হুগলি থেকে জিতে তৃণমূলের সাংসদ হয়েছেন তিনি। সুতরাং, সাংসদের দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে। চলে গেলেন হুগলির বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে। সেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধাঁচেই ডিভিসিকে কটাক্ষ করলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ ক্ষুব্ধ রচনা শেষমেশ ফিরে এলেন চাষের মাঠের তাজা বুনো ওল হাতে নিয়ে।    

আজ, বুধবার বন্যা দুর্গত বলাগড়ের নানান এলাকা ঘুরে দেখেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাঁদরা, মিলনগর, চরখয়রামারি-সহ ভাঙন এবং বন্যাকবলিত এলাকায় যান তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান করতে কেন্দ্র সাহায্য করেনি, জানান রচনা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী হয়ে সেই কাজ করছেন। তেমনই বলাগড়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কোনও পরিকল্পনা করা যায় কী না দেখা হবে। এদিন ‘দিদি’র মতোই ডিভিসি-কে কটাক্ষ করেন এচনা।

বন্যার পরিস্থিতি দেখে তিনি বলেন, “তিন মাস আগে যেখানে দাঁড়িয়ে প্রচার করে গিয়েছি, সেই সমস্ত জায়গা তলিয়ে গিয়েছে। কয়েকটি বাড়ি, এমনকী রাস্তা পর্যন্ত গঙ্গায় মিশে গিয়েছে। খুবই খারাপ অবস্থা। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের জন্য ত্রাণের আয়োজন করেছি। গঙ্গা ভাঙন রোধ একটা বড় বিষয়। আমি লোকসভায় বলেছি। আবারও বলব। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া হবে না। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আদলে বলাগড় মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। এর আগে বিজেপি সাংসদ যিনি ছিলেন তিনি কিছুই করেননি এলাকার জন্য। আমি জেতার পর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছি”।

বলাগড় এলাকায় গঙ্গার ভাঙনের জেরে বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। নদীর পাড় এখনও ভাঙছে। যাদের বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে, তারা আবাসের টাকায় ঘর পান নি বলে অভিযোগ করেন। তা শুনে রচনা এদিন বলেন, “সাংসদ হিসেবে পাশে আছি। মানুষের ক্ষোভ তো থাকবেই। স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, দিদি যে ভাঙন দেখে গেলেন, সেটা একদিনে হয়নি। বিগত চার-পাঁচ বছর ধরে শুরু হয়েছে। তখন থেকেই কেন কাজ করা হয়নি, আমার জানা নেই। তখন থেকে একটু একটু করে কাজ শুরু করলে একটু হলেও বন্যা পরিস্থিতি আজ নিয়ন্ত্রণে আনা যেত”।

এদিন ফেরার পথে ওল কেনেন তারকা-সাংসদ। ওলপ্রীতি রয়েছে রচনার। বলাগড়ের মিলনগড় থেকে চরখয়রামারি যাওয়ার সময় তিনি দেখেন চাষিরা ওল ধুয়ে বাজারে নিয়ে যাবেন বলে বস্তায় ভরছেন। সেখান থেকেই ওল কিনলেন হুগলির সাংসদ। চাষবাস কেমন হয়েছে, তা খোঁজ নেন। এরপর একটা কিনে বলেন, “একটাই যথেষ্ট। এখানে অনেক ওলের চাষ হয়। বাড়িতে নিয়ে যাব। এসব খুব খাই আমি”। তবে আবার এও জানতে চাইলেন যে, “গলা ধরবে না তো”?

আরও অন্যান্য খবর