দেবীপক্ষের সূচনা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। খাতায় কলমে অবশ্যই শরৎ কাল। চারদিকে ঝলমলে আবহাওয়া, আকাশ ভর্তি পেঁজা তুলোর মতো মেঘ সঙ্গে কাশ এবং শিউলি ফুলের শোভা৷ এই সবমিলিয়েইতো শরতের শোভা৷ কিন্তু এবারে যেন পূজো এসে শরৎ এর ঘোষণা করলেও প্রকৃতির রূপ বলছে অন্য কথা। শরৎ না বর্ষা তা যেন বোঝাই দায়।
মায়ের সঙ্গে মর্তে মহিষাসুরের আসার পূর্বেই এসে হাজির হয়েছে বর্ষাসুর৷ তারই ভ্রুকূটিতে যেন চারিদিক থর হরি কম্প। ভেস্তে গিয়েছে পূজোর শেষ বাজার। মন্ডপ গুলো এবং মৃৎ শিল্পীদের শেষ মুহূর্তের কাজও রয়ে যাচ্ছে অসম্পূর্ণ। এমতাবস্থায় অনেক পূজো কমিটিরই মাথায় হাত৷ সারাদিন ধরে হয়েই চলেছে নাছোড়বান্দা বৃষ্টি। বঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির রূপ। আকাশে শরৎ এর পেঁজা তুলোর মতো মেঘের স্থানে জায়গা নিয়েছে বর্ষার কালো মেঘ। পূজোর গন্ধটুকু বাদ দিলে এ যেন ঘোর বর্ষাকাল। এমতাবস্থায় পূজোর চারদিন নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত বাঙালীরা। শারদোৎসবের আনন্দটাই না ভেস্তে দেয় এই বর্ষাসুর৷ কি বলছে আবহাওয়া দফতর? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
না, আপাতত দ্বিতীয়া অবধি বৃষ্টি বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই৷ উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ওপরে অবস্থানকারী এক ঘূর্ণাবর্তের কারণে কালো মেঘের কালো ছায়া গ্রাস করে থাকবে পশ্চিমবঙ্গকেও৷ চলবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত। এই অবধি ঠিক ছিল, কিন্তু আসল আশঙ্কার কথা জানিয়ে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই উত্তর বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন হতে পারে একটি নিন্মচাপ। আর তা হয়ে এই বর্ষাসুরের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা৷ পূজোর চারদিন নিয়ে এখনও সঠিক ভাবে কিছু বলতে না পারলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দিতে পারচ্ছেন না আবহাওয়াবিদেরা৷ ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে মালদা সহ দুই দিনাজপুরে। বলা বাহুল্য, এবারে তাই বাঙালীদের শারদোৎসব কাটতে চলেছে একরাশ আশঙ্কা দিয়েই, বর্ষাসুর পূজোর আনন্দতেই নাকী আবার জল ঢেলে দেয়!!






