মানভঞ্জনের পালা! পার্থ, পিকের সঙ্গে বৈঠক রাজীবের, মিলল না সমাধান সূত্র, ক্ষোভের সুর রাজীবের গলায়

বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে অবস্থান নিয়ে নানান জল্পনার মাঝে তাঁর সঙ্গে বৈঠক সারলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। তবে এক আলোচনাতেই সমস্যার সমাধান হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। রবিবার দুপুরে বৈঠক সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, দলীয় আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। পরে ডাকলে আবার যাবেন তিনি।

তবে এদিনের বৈঠকের পরে প্রশ্নের এড়িয়ে যাওয়া উত্তর এলেও, নিজের ক্ষোভ গোপন করতে পারলেন না তিনি। বললেন, “দলের কারোর প্রতি যদি কারোর ক্ষোভ তৈরি হয়, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলাই ভালো”। আলোচনা সন্তোষজনক কী না প্রশ্ন করাতে উত্তর আসে, “আলোচনা হয়েছে এটুকুই। বেশি কিছু বলার নেই”। অতএব, আজকের বৈঠকের পরেও দলে রাজীবের অবস্থান নিয়ে জল্পনা কাটল না।

এদিনের বৈঠকে আদৌ কোনও মীমাংসা হল কী না, এ নিয়ে জল্পনা জিইয়েই রাখলেন রাজীব। এদিকে তাকে পোস্টার নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তাঁর স্পষ্ট জবাব, “ কারা করছে জানি না। যারা করছে এটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই”। আবার তাকে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন তাঁরা দু’জন আলাদা মানুষ। দু’জনেই নিজেদের মতো কাজ করছেন। তাদের একসঙ্গে না জড়ানোই ভালো, একথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজীববাবু। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ত কিছু শর্ত রেখেছেন শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। এ নিয়ে আবার পরবর্তীকালে আলোচনা হবে বলেও অনেকে মনে করছেন।

প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বোমা ফাটান রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে এক সভায় তিনি বলেন, তাঁকে কোণঠাসা করা হচ্ছে, তাঁর কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে খুব বেশি প্রতিবাদ দেখাতে দেখা যায়নি তাঁকে। এরপর ‘আমরা দাদার অনুগামী’ স্টাইলে তাঁরও পোস্টার, ব্যানার ছয়লাপ হয়ে যায় উত্তর কলকাতা ও হাওড়া জুড়ে। তবে তার বয়ান ছিল ভিন্ন। গতকাল রাতেও ডোমজুড়ে ‘রাজীবদা ভরসা’ লেখা হোর্ডিং দেখা গিয়েছে। এসব নিয়ে গুঞ্জন শুরু হতেই সতর্ক হয় দলীয় নেতৃত্ব এই নিয়ে আলোচনার জন্যই আজ, রবিবার দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরও। তবে বৈঠকের আলোচনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বনমন্ত্রী।

RELATED Articles