তিনি শুভেন্দু অনুগামী। শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করার পরই তার নিরাপত্তা নিয়ে নিজের চিন্তা প্রকাশ্যে প্রকাশ করেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সম্পাদক কনিষ্ক পন্ডা।
একাধিকবার তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দল বিরোধী কথা বলেছেন। আর তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আর কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে সোজা দল থেকে বের করে দিল শাসক তৃণমূল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী, দুয়ারী সরকার প্রকল্প নিয়েও বিরুদ্ধ কথা বলেছিলেন কনিষ্ক। তিনি বলেছিলেন, ‘দিদিকে যতদিন না আমরা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরাতে পারছি ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং ময়দানে দেখা হবে।’ আর তাই আজ রবিবাসরীয়তে তাঁকে দল থেকেই বহিষ্কার করে কড়া বার্তা দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এর আগে কনিষ্ক পণ্ডার মুখে শোনা গিয়েছিল এই কথা— ‘তাড়ালে আমরা চলে যাব। আমরা এখানে থাকার জন্য আকাঙ্ক্ষিত নই বা শুভেন্দু অধিকারী কোনওভাবে পদের লোভী নন।’ এবার কনিষ্ক পণ্ডাকে বহিষ্কার করে শুভেন্দু অধিকারী–সহ দলবিরোধী অন্য সকলকে বার্তা দিল তৃণমূল, এমনই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৪ঠা ডিসেম্বর তৃণমূলের জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও শুভেন্দু অধিকারীর পিতা শিশির অধিকারীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে পূর্ব মেদিনীপুরে অনেকে দল বিরোধী মন্তব্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন নির্দেশের পরেও ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প, ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছেন কনিষ্ক। এমনকী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও বিরূপ মন্তব্য শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, গতকাল অর্থাৎ শনিবার কাঁথিতে খোলা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী সহায়তা কেন্দ্র। বিস্ময়কর ভাবে ওই দফতরের দেওয়ালের রঙ করা হয়েছে গেরুয়া। সেই ব্যাপারে বলতে গিয়েই এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে কনিষ্ক পণ্ডা বলেন, ‘তৃণমূল তো ত্যাগী। সেই ত্যাগ বোঝাতেই গেরুয়া রঙ। রাজনীতি চলতে থাকবে। দিদিকে যতদিন না আমরা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরাতে পারছি ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং ময়দানে দেখা হবে।’





