নতুন নাটক! ‘বাকি জীবনটা ঠাকুরের আশ্রমেই কাটাতে চাই’, নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়াতেই রাজনীতি থেকে বিদায়ের ঘোষণা তৃণমূলের বিভাসের

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তারা। এরপরই রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন খাতায় কলমে তৃণমূলের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি বিভাস অধিকারী। গতকাল, বুধবার নলহাটির শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘোষণা করেন তিনি।

বিভাস অধিকারী জানান যে তিনি নিজের পরবর্তী সময় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ও তাঁর নির্মিত আশ্রমেই কাটাবেন। এদিকে, অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম থেকে জানানো হয়েছে যে বিভাস অধিকারী শ্রীকৃষ্ণপুরে যে অনুকূল ঠাকুরের যে আশ্রম তৈরি করেছেন, তার সঙ্গে দেওঘরের মূল আশ্রমের কোনও যোগ নেই। এমন মিথ্যা প্রচার চালালে বিভাসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই বিভাস অধিকারীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বেশ ধন্ধ রয়েছে। তিনি খাতায়-কলমে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। কিছু মাসা আগে তিনি ব্লক সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তা দলীয় রীতি মেনে হয়নি। দলের জেলা সভাপতিকে ইস্তফাপত্র না দিয়ে তিনি তা দিয়েছিলেন পর্যবেক্ষক ত্রিদিব ভট্টাচার্যকে।

বিভাস আবার এও দাবী করেছিলেন যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি এও দাবী করেন, নলহাটির আশ্রমে বেশ কয়েকবার গিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিভাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পরও কৈলাস বিজয়বর্গীয় তাঁকে দেখতে যান। তবে বিজেপিতে যোগ দেননি তিনি। খাতায় কলমে তিনি এখনও তৃণমূলেরই ব্লক সভাপতি।

এদিকে, নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পর এদিন ফের ঘটা করে ইস্তফা দিয়েছেন বিভাস। এই প্রসঙ্গে রামপুরহাট মহকুমার তৃণমূল পর্যবেক্ষক ত্রিদিব ভট্টাচার্য্য বলেন, “উনি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। আমরা ওই ব্লকে তিনজন কার্যকরী সভাপতি করে দল চালাচ্ছি”।

বিভাসের ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের নামে আশ্রম চালানো নিয়েও বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে বৈ কী। অনুকূল ঠাকুরের সৎসঙ্গের জেলা সভাপতি অনিল চক্রবর্তীর দাবী, “জেলায় যে ঠাকুর অনুমোদিত দেওঘরের স্বীকৃত ৪০টি সৎসঙ্গ কেন্দ্র আছে এবং ৫০০ সৎসঙ্গ উপযোজনা আছে তার সঙ্গে বিভাস অধিকারীর কোনও যোগ নেই”।

অন্যদিকে, বিভাস পাল্টা দাবী করেন, “অনিল চক্রবর্তী একজন জাল ভক্ত। তবে তার মন ভাল। ওটাও এনজিও। আমারটাও এনজিও’। ঠাকুর বলেছেন, ধর্মে গণতান্ত্রিকতার কোনও জায়গা নেই। এককেন্দ্রিকতায় ধর্ম এগিয়ে চলে”।

RELATED Articles