শিক্ষকতা নাকি ‘রিলে রেস’! শিক্ষকরা অসুস্থ থাকায় স্কুলে এসে পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন তাদের বোন-ছেলেরা, অবাক কাণ্ড জলপাইগুড়ির সরকারি স্কুলে

স্কুলের দুই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। সেই কারণে স্কুলে আসতে পারেন না তারা। কিন্তু তাদের সেই শিক্ষকতার ডিউটি দিব্য চলল। ওই দুই শিক্ষকের জায়গায় স্কুলে এসে পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন তাদেরই বোন-ছেলেরা। এমনই অবাক করা ঘটনা দিনের পর দিন ধরে ঘটে চলেছে জলপাইগুড়ির পূর্ব গয়েরকাটা অ্যাডিশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

গতকাল, শনিবারই সামনে এসেছে এই ঘটনা। আর এরপর থেকেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। এই খবর পেয়ে কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংসদের চেয়ারম্যান লক্ষ্যমোহন রায়। গোটা ঘটনাটাই অজানা তাঁর।

জানা গিয়েছে, বানারহাট ব্লকের পূর্ব গয়েরকাটা অ্যাডিশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার দে চার বছর ধরে অসুস্থ। তাঁর পরিবর্তে ওই স্কুলে এসে পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন তাঁর বোন রূপা দে। এই একটা ঘটনাই নয়। এই স্কুলের আর এক প্যারাটিচার মণি পাল বোসও এক বছর ধরে অসুস্থ। সেই কারণে তাঁর জায়গায় ক্লাস নেন তাঁর ছেলে প্রীতম বোস। জানা গিয়েছ, প্রীতম নিজে মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসে কর্তব্যরত। এরপরও ওই স্কুলে পড়ান তিনি।

এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। এক শিক্ষকের জায়গায় তাঁর পরিবারের কোনও লোকজন কীভাবে স্কুলে এসে পড়াতে পারেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সঞ্চালী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, স্কুলের বিষয়ে তিনি বাইরে কিছু জানাবেন না।

এই ঘটনায় শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার দে’র বোন রূপা দে জানিয়েছেন যে তাঁর দাদা অসুস্থ। স্কুলে আসতে পারেন না তিনি। পড়ুয়াদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণেই স্কুলে এসে ক্লাস নিচ্ছেন তিনি নিজে। অন্যদিকে, প্রীতম বসুর দাবী, তাঁর মা অসুস্থ থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই মায়ের জায়গায় তিনি পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছেন।

এই গোটা ঘটনাটা এতদিন ধরে চলছিল প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান লক্ষ্যমোহন রায়ের অগোচরে। তিনি জানান যে তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এই ঘটনার খোঁজখবর নেওয়া ও উপযুক্ত ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

RELATED Articles