‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে দুর্নীতি, খবর সংগ্রহ করতে যাওয়ায় সাংবাদিককে বেধড়ক মার, অভিযোগের কাঠগড়ায় তৃণমূল

গত ১৬ই আগস্ট থেকে চালু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফা। এই দফায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফর্ম বিলি করা হচ্ছে নানান জেলায়। এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফর্ম বিলি নিয়ে জালিয়াতি রুখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফর্মে ইউনিক নম্বর বসানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই দুর্নীতি কমে নি। অনেক জায়গা থেকে নানান অভিযোগ আসছে এই ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে।

এরকমই একটি ঘটনা ঘটল খাস কলকাতার বুকেই। জানা গিয়েছে, তালতলার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে তালতলা হাইস্কুলে চলছিল ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প। খবর মেলে যে সেই ক্যাম্পে টাকার বিনিময়ে ফর্ম বিক্রি করা হচ্ছে। এই কারণে খবর সংগ্রহ করতে সেখানে হাজির হন Channel-10 চ্যানেলের এক মহিলা সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক।

কিন্তু অভিযোগ, তাদের খবর করতে দেওয়া তো দূর, তাদের ক্যাম্পে ঢুকতেই দেওয়া হয় না। তাদের বলা হয় যে ক্যাম্পে প্রবেশ করতে গেলে নাকি ‘লাইন’ দিয়ে আসতে হবে। এই নিয়ে বচসা বাঁধে মহিলা সাংবাদিক ও ক্যাম্পে থাকা তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে।

মহিলা সাংবাদিকের কথা অনুযায়ী, তারা জোর করে ক্যাম্পে ঢোকার চেষ্টা করলে বা খবর করতে গেলে তাদের ক্যামেরা আছাড় মেরে ভেঙে ফেলা হয়। এরপরই  শুরু হয় ঝামেলা। পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হতে থাকে। চিত্র সাংবাদিক তাঁর ফোন থেকে এই ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তাঁর ফোনও ভেঙে দেওয়া হয় ও তাঁকে মারধর করা শুরু হয়।

আরও পড়ুন- ভয়ঙ্কর! অন্যায়ভাবে বদলির প্রতিবাদ, বিকাশ ভবনের সামনেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পাঁচ শিক্ষিকার

এরপর ওই মহিলা সাংবাদিক তাঁর সিনিয়র সহকর্মীকে ফোনে এই ঘটনার কথা জানানোয় অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় নামের এক সাংবাদিক সেখানে পৌঁছন। স্থানীয় কো-অর্ডিনেটর ইন্দ্রাণী সাহা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে জানানো হলেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেন নি। উল্টে তাঁর দলের ছেলেদের তিনি নির্দেশ দেন যাতে সাংবাদিকদের আটকানো হয়।

এরপরই শুরু হয় সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর। এমনকি বন্দুকের বাঁট দিয়ে সাংবাদিক অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়কে মারা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর এই গোটা ঘটনায় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ। সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এত ঘটনা ঘটার পরও তারা দুষ্কৃতীদের আটকানোর কোনও চেষ্টাই করেন নি।

এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা শহর জুড়ে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেন যে অন্যান্য রাজ্যে মিডিয়ার উপর আক্রমণ হলেও এই রাজ্যে তা হয় না। কিন্তু এই ঘটনার পরও তিনি চুপ কেন? আর দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে কীসের এত গোপনীয়তা? কেন কোনও সাংবাদিককে খবর করতে দেওয়া হবে না? সত্য খুঁজে বের করতে গেলে কী এভাবেই সাংবাদিকের অত্যাচারিত হতে হবে? তাহলে কীসের নিরাপত্তার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী? এমন নানান প্রশ্ন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে নানান মিডিয়া হাউজ ও রাজ্যবাসীর মনে।

RELATED Articles