মুখেই তরুণদের ডাক, এদিকে যুবদের সংখ্যা ৯%-এরও কম, এখনও সিপিএমের হাড়ে-মজ্জায় জড়িয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাই

অদ্ভুত দল এই সিপিএম। বারবার তারা নানান ভুল করে ও পরে তা স্বীকারও করে নেয়। ভুল করে স্বীকার করা, এ নাকি সিপিএমের অনেক পুরনো অভ্যেস। তবে এই দলের কিছু কাজকর্ম দেখলে তা হাসির খোরাকেই যেন পরিণত হয়। মুখে এক কথা আর কাজে অন্য।

একদিকে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-তে প্রবন্ধ লেখার জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয় অনন্তা বিশ্বাসকে। আবার অন্যদিক, দলের নেতৃত্বের তরফেই ঘোষণা করা হয় যে জাতীয় স্তরে বিজেপিকে হারাতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতেও কোনও আপত্তি নেই সিপিএমের।

তবে সিপিএমের তরফে একন দু’মুখো কথাবার্তার নজির এই প্রথম নয়। একদিকে দলের তরফে বারবার বলা হয় তরুণদের এগিয়ে দেওয়ার কথা। তরুণদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার কথা। তরুণদের নিজেদের দলে ডাক দেয় সিপিএম। কিন্তু দলে তরুণদের সংখ্যা তেমনভাবে চোখে না পড়ার মতোই। এখনও গদি আটকে বসে রয়েছেন সিপিএমের বৃদ্ধ কর্তারাই।

আরও পড়ুন- ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে দুর্নীতি, খবর সংগ্রহ করতে যাওয়ায় সাংবাদিককে বেধড়ক মার, অভিযোগের কাঠগড়ায় তৃণমূল

‘দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিস্থিতি অনুধাবন করে আন্দোলন-সংগ্রামের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা’। কথাগুলো বাংলা, শব্দগুলোও চেনা, কিন্তু এর অর্থ ঠিক বোধগম্য হল কী? এই ভাষাতেই কার্যত লেখা হয়েছে সিপিএমের রাজ্য কমিটির পর্যালোচনার রিপোর্ট।

সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে যে পর্যালোচনা, তাতে উঠে এসেছে যে দলের চেতনা নাকি ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে ও দলের অনেকেই নির্বাচনের সময় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। যার ফল বিধানসভা বামশূন্য।

এই পর্যালোচনা বৈঠকে এও জানা গিয়েছে যে বেশিরভাগ জেলা থেকে দলের তরফে মাসিক না ত্রৈমাসিক রিপোর্ট পাঠানো হয় না। দলের কর্মসূচি আদৌ পালন হচ্ছে কী না, তা জানা যায় না। এর ফল মিলেছে একুশের বিধানসভায়। কিন্তু আদপে সমস্যাটা কী? তা হয়ত বুঝেও না বোঝার ভান করছে আলিমুদ্দিন।

২০১৬ সালে কলকাতার প্লেনামে বামেদের তরফে জানানো হয়েছিল যে দলের যে কোনও শাখায় মহিলা ও ৩১ বছরের কম বয়সী যুবদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু পাঁচ বছর পর বিশ্লেষণে যে ফল মিলল তাতে দেখা যাচ্ছে যে মহিলা ও যুবদের সেভাবে সংগঠনে আনা যায় নি। দলে মহিলা সদস্যের সংখ্যা ১১%-এরও কম। প্লেনামে বলা হয় যে দলের ২০% থাকবে ৩১ বছরের কম বয়সী যুবরা। কিন্তু ২০২১-এ দাঁড়িয়ে সেই সংখ্যা ৯%-এরও কম।

অর্থাৎ বলাই যে যে ঐশী, সৃজন, মীনাক্ষী, দীপশিখাকে সামনে রাখলেও দলের ভেতরে ভেতরে এখনও সেই বৃদ্ধতেই ঠাসা। এই কয়েকজন তরুণ মুখকে সামনে রেখে তরুণদের নিয়োগের কথা বলে সিপিএম। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে সিপিএম যদি তরুণদের মনই না বোঝে, তাহলে তারা কীভাবে তরুণদের নিয়ে চলবে সিপিএম?

RELATED Articles