মানসিক অবসাদের জের! ৩ বছর ধরে পেনশন না পেয়ে আত্মঘাতী শিক্ষারত্নপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, আর রাজ্যের নেতাদের বাড়ি মজুত কোটি টাকা

মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে শেষমেশ আত্মহত্যার পথই বেছে নিলেন হেয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধীর দাস। পূর্ব বর্ধমানের মেমারির দেবীপুর এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরিবারের দাবী, তিন বছর হয়ে গেল কোনও পেনশন পান নি তিনি। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এর জেরেই আত্মহত্যা করেছেন শিক্ষক, এমনটাই দাবী।

সুধীরবাবু কলকাতার হেয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, গতকাল, মঙ্গলবার রাতে বাড়ির ভিতরেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের লোকজন। মেমারি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতের ছেলে সমীরণ দাসের দাবী, “২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে অবসর নেন। সে বছর শিক্ষারত্ন সম্মানে ভূষিতও হন তিনি। তারপর থেকে অনেক চেষ্টা করেও তাঁর পেনশন চালু হয়নি। পেনশনের জন্য তিনি বারবার কলকাতা ছোটাছুটি করতেন”।

মৃতের দাদা শঙ্কর দাস বলেন, “অবসরের পরেই লকডাউন শুরু হয়ে যায়। সেই কারণেই পেনশন চালু হয়নি। এই নিয়ে ভাইকে চিন্তিত থাকতে দেখা যেত। পেনশন চালু না হওয়ায় মানসিক অবসাদের কারণেই আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে”।

এই ঘটনাতে রাজনৈতিক রঙ লেগেছে। এই ঘটনায় প্রতিবাদমুখর হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবী, শিক্ষারত্নপ্রাপ্ত একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে কেন মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে? বিজেপির আরও দাবী, মৃত শিক্ষক তোলা দেন নি বলেই পেনশন পান নি। যেখানে রাজ্যের নেতাদের থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে কেন তাঁর প্রাপ্য পেনশন দেওয়া হবে না? এ কী হাল হল রাজ্যের, এ নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের আপদকালীন পেনশন চালু হয়েছিল গত বছর জানুয়ারি মাসে। তা সত্ত্বেও আমি ২ সদস্যের কমিটি গঠন করলাম। তারা তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দেবে। আপদকালীন পেনশন কবে চালু হয়েছিল? তিনি পেতেন কিনা? সে সংক্রান্ত তথ্য জানাবে ওই কমিটি”।

RELATED Articles