অনুমাধব! সিবিআই হাজিরা এড়াতে অনুব্রত মণ্ডলের এসএসকেএমে নাটকীয় ভর্তি নিয়ে এবার ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রুদ্রনীলের, ধুয়ে দিলেন মমতা-কুণালকেও

গতকাল, বুধবার রাজনৈতিক মঞ্চে এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। এদিন গরুপাচার কাণ্ডে সিবিআই তলব করেছিল বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। গত মঙ্গলবার কলকাতা এলেও, গতকাল শেষ পর্যন্ত হাজিরা দেন নি তিনি।

এদিন চিনার পার্কের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনুব্রতর গাড়ি নিজাম প্যালেস পার করে গিয়ে দাঁড়ায় এসএসকেএমে। বলা হয়, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দিতে পারবেন না। এসএসকেএমে অনুব্রতর একাধিক পরীক্ষা হওয়ার পর তাঁকে উডবার্ন ওয়ার্ডের ২১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করেন চিকিৎসকরা। বলা হয়েছে যে তাঁর হার্টে সামান্য সমস্যা রয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে গতকাল গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধীরা একে একে নানান কটাক্ষ শানাতে থাকেন তৃণমূল নেতাকে। হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার অনুব্রতকে কটাক্ষ করে একটি গানও বেঁধেছিলেন। এবার এই ঘটনা  নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা শোনা গেল বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের গলায়।

নিজের চেনা ছন্দেই নাম না করে অনুব্রত মণ্ডলকে তোপ দেগেছেন রুদ্রনীল। তাঁর এই কবিতার নাম ‘অনুমাধব’। এই কবিতার মাধ্যমে অনুব্রত মণ্ডলের গতকালের কীর্তিকলাপকে বেশ তির্যকভাবে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। এই কবিতার মাধ্যমে রুদ্রনীল এও বলেছেন যে বীরভূমের পুলিশ-প্রশাসন আদতে ‘কেষ্ট’র হাতের মুঠোয়।

শুধু কি তাই, কবিতার মাধ্যমে গরু-কয়লা- পাথর সমস্ত ঘটনার প্রসঙ্গ ছুঁয়ে গিয়েছেন রুদ্রনীল। এই কবিতায় কুণাল ঘোষকেও শানাতে কসুর করেন নি বিজেপি নেতা। বলেই দিয়েছেন, অনুব্রত ও কুণাল একই ‘স্কুলের’ ছাত্র, তাদের ‘গুরু’ও সমান, তাহলে কেন অনুব্রতর উপর ক্ষিপ্ত থাকেন কুণাল? যদিও সবটাই পরোক্ষভাবেই। কিন্তু কবিতা শুনলে বুঝতে আর বাকি থাকে না যে রুদ্রনীল ঠিক কাকে বাক্যবাণে বিঁধতে চেয়েছেন।

রুদ্রনীলের এই কবিতাতে অনুব্রত-কুণাল ছাড়াও নাম উঠে এসেছে ‘দিদি’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তাঁর সহযোগিতার কারণেই যে অনুব্রত এমনভাবে একাধিক বার হাজিরা এড়াতে পারছেন, তাও উল্লেখ করেছেন তিনি। রুদ্রনীলের এই কবিতা পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

শুনে নিন সেই কবিতা-

RELATED Articles