চন্দননগরের এক শান্ত পাড়ার মধ্যেই যেন হঠাৎ ঢুকে পড়েছে এক আন্তর্জাতিক রোমহর্ষক কাহিনি! এক পাঁচ বছরের শিশুকে ঘিরে উদ্বেগে কাঁটা এক পরিবার। আর সেই উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে যখন উঠে এসেছে ‘রাশিয়ান গুপ্তচর’-এর অভিযোগ। এক বিদেশিনী পুত্রবধূ সন্তানকে নিয়ে আচমকাই উধাও! অভিযোগ, তিনি একজন গুপ্তচর। এই রহস্যময় ঘটনার জেরে চন্দননগরের বাসিন্দা বসু পরিবার এখন আশ্রয় নিয়েছেন দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারে।
চন্দননগরের বাসিন্দা সৈকত বসু কর্মসূত্রে ছিলেন চিনে। সেখানেই পরিচয় হয় রাশিয়ান নাগরিক ভিক্টোরিয়া জিগালিনার সঙ্গে। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রেমে, শেষপর্যন্ত বিয়ে। ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে সৈকত ফিরে আসেন দেশে। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে পরিবারে অস্বস্তি জন্মাতে শুরু করে। কারণ, ভিক্টোরিয়ার পরিচয় সামনে আসতেই চমকে ওঠেন সকলে—তাঁর বাবা রাশিয়ার এফএসবি (FSB) অর্থাৎ প্রাক্তন কেজিবি অফিসার। এখান থেকেই সন্দেহ জন্মায় বসু পরিবারের মনে।
সৈকতের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ভিক্টোরিয়া তাঁকে নিয়মিত ফোর্ট উইলিয়মে যাওয়ার কথা বলতেন। প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার সমীর বসুর পরিবার ভিক্টোরিয়ার ওই অনুরোধে কখনই সাড়া দেয়নি। এর পরেই শিশুপুত্রের হেফাজতের মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার বিচার চলাকালীনই হঠাৎ সন্তানকে নিয়ে উধাও হয়ে যান ভিক্টোরিয়া। বসু পরিবারের অনুমান, তিনি ছেলেকে নিয়ে ইতিমধ্যেই রাশিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে বসু পরিবারের একটাই লক্ষ্য—পাঁচ বছরের সন্তানকে ফেরানো। তাদের দাবি, বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সন্তানের ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে একদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক—এই দুইয়ের মাঝে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির।
আরও পড়ুনঃ AI Porn Revenge: প্রাক্তন প্রেমিকার ছবি ব্যবহার করে লক্ষাধিক টাকা কামাল ইঞ্জিনিয়ার প্রতিম বোরা!
এই জটিল পরিস্থিতিতে এখন একমাত্র আশার আলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, আদৌ সন্তানের হেফাজত কে পায়—তা-ই ঠিক করবে সৈকতের ভবিষ্যৎ। তবে বসু পরিবার এখনও আশাবাদী, আইন ও প্রশাসনের মাধ্যমে একদিন ফিরে আসবে তাঁদের ছোট্ট ছেলেটি—ভারতীয় মাটিতে, নিজের বাবার কোলে।





