ভালোবাসা কখনও কখনও ভয়ংকর প্রতিহিংসার রূপ নেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেই প্রতিহিংসা যদি প্রযুক্তির সহায়তা পায়, তাহলে তার পরিণাম হতে পারে ভয়ঙ্কর। এমনই এক বাস্তব ঘটনার মুখোমুখি হলেন অসমের এক তরুণী। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরই তাঁর ছবি ব্যবহার করে কল্পিত পরিচয়ের আড়ালে বানানো হল ভুয়ো পর্ন কনটেন্ট, আর তা দিয়েই প্রাক্তন প্রেমিক শুরু করল অর্থ উপার্জন! ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অসম থেকে দিল্লি পর্যন্ত।
ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রতিম বোরা, যিনি পেশায় একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। যদিও বর্তমানে তিনি দিল্লিতে থাকেন, এই চক্রান্তের জন্মস্থল কিন্তু তাঁর নিজের রাজ্য অসমেই। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রতিম প্রাক্তন প্রেমিকার একটি ছবি নিয়ে এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন। তারপর ‘মিডজার্নি এআই’, ‘ডিজায়ার এআই’, ‘ওপেনআর্ট এআই’-এর মতো টুল ব্যবহার করে শতাধিক নকল পর্ন ছবি ও ভিডিও বানান তিনি।
এই ভুয়ো কনটেন্টগুলি আপলোড করা হয় ‘Babydoll Archi’ নামের একটি ফেক প্রোফাইল থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ‘আর্চি’র মিথ্যে জীবনকথা— বলা হয়, তিনি নাকি একসময় দিল্লির রেড লাইট এলাকায় আটকে ছিলেন এবং ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে সেখান থেকে মুক্তি পান! শুধু তাই নয়, আমেরিকান পর্নস্টার কেন্ডা লাস্টের সঙ্গে ‘আর্চি’র ভুয়ো ছবি ছড়িয়ে বিষয়টিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হয়। অনলাইন দুনিয়ায় এই চরিত্র জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রতিম সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন আর্থিক লেনদেন।
সম্প্রতি কিছু এআই-নির্মিত কনটেন্ট ভাইরাল হওয়ায় সন্দেহের সূত্রপাত ঘটে। প্রাক্তন প্রেমিকা সেই সব ছবি দেখে ডিব্রুগড় থানায় সাইবার মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নামে এবং একে একে ফাঁস হতে থাকে প্রতিমের কাণ্ড। জানা যায়, এই পুরো অপারেশন তিনিই একা চালাচ্ছিলেন। ফেক পর্ন বানিয়ে আপলোড করার পাশাপাশি, তাতে থেকে উপার্জনও করছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Trending Story: শিক্ষার জন্য ত্যাগ না প্রচার? মালতির স্কুল ঘিরে বিতর্ক, ভুল স্বীকার স্বামীর!
ডিব্রুগড়ের পুলিশ সুপার সিজল আগরওয়াল জানান, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। প্রতিম বোরা বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছেন এবং পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, কার্ড ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ অনুমান করছে, এই প্রতারণা থেকে প্রতিম অন্তত ১০ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। ‘ডিজিটাল প্রতিহিংসা’র ভয়াবহ রূপ তুলে ধরল এই ঘটনা।





