রাজ্যপালের সই ছাড়াই বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির বিল পেশ বিধানসভায়, বিক্ষোভ দেখিয়ে অধিবেশন ওয়াকআউট বিজেপির

দ্বিতীয়ার দিন বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয় বিধানসভায়। কিন্তু রাজ্যপালের সই ছাড়াই বিল পেশ হল। সেই কারণে আলোচনা মুলতুবি রাখেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও স্পিকার জানান, প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুর কারণেই আলোচনা মুলতুবি রাখা হয়েছে। বিশেষ অধিবেশন ডেকেও বিল নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়করা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অধিবেশন ওয়াকআউট করেন তারা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন। দ্বিতীয়ায় বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয় বিধানসভায়। বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির বিল পাশ করানো ও সেটা নিয়ে আলোচনা করাই ছিল এই অধিবেশন মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু গতকাল, রবিবার এই বিল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এদিন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস ডেকে পাঠান পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। এই বিল নিয়ে প্রশ্ন করেন রাজ্যপাল। তিনি জানান যে এই বিল নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তাঁর সচিবকে দিতে হবে রাজ্যকে। তারপরই তিনি বিলে সই করবেন। ফলে আজ, সোমবার আদৌ এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করা যাবে কী না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়।

তবে এদিন বিধানসভায় বিলটি পাশ হলেও তা নিয়ে আগামী ৪ ডিসেম্বরে আলোচনা হবে বলে জানান স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।  স্পিকারের কথায়, প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুর কারণে এদিন বিল নিয়ে আলোচনা করা হবে না। এরপরই বিক্ষোভ দেখান শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “স্পষ্ট বলে দিন না যে রাজ্যপাল সই করেননি তাই আলোচনা হবে না”। এরপর বিধানসভা মুলতুবি হলে বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়করা।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”নিয়ম মেনে বিলটি পেশ হয়েছে। তবে আলোচনা হয়নি। বিলটি পেশ হয়ে রইল, পরে আলোচনা হবে। বিজেপি বিধায়করা কী বলছেন, তা নিয়ে কিছু আসে যায় না। ওঁরা এমন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, আমি আগে কখনও দেখিনি”।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক দ্বিজেন্দ্র নাথ রায় প্রয়াত হয়েছেন । ১৯৮১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি কুমারগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন। মাঝে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন না। তাঁর মৃত্যুর জন্য বিধানসভা মুলতুবি হয় এদিন। পরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, বিল পেশ করার পর আলোচনার জন্য রাজ্যপালের অনুমোদন লাগে। কিন্তু সেই অনুমোদন মেলেনি ফলে আলোচনা করা যাবে না। রাজ্যপাল অনুমোদন দিলে আলোচনা হবে।

RELATED Articles