আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গর্জে উঠেছে গোটা রাজ্য। দিকে দিকে প্রতিবাদের স্বর। ন্যায় বিচারের দাবীতে পথে নেমে লড়ছেন সকল স্তরের মানুষ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবার আচমকাই দ্বারস্থ হলেন হাইকোর্টের। কী ঘটল হঠাৎ?
আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার হাত ধরেই উঠে আসে আর জি করে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টিও। এই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের বর্জ্য পাচার থেকে শুরু করে মর্গের দেহ পাচার, আরও নানান দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তাঁর বাড়িতে হানাও দেয় সিবিআই। এরপর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সন্দীপকে।
এমনকি আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে প্রেসিডেন্সি জ্বেলে গিয়েও সন্দীপ ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তদন্তে নেমে সন্দীপ ঘোষের বিপুল সম্পত্তির সন্ধান মেলে। ক্যানিংয়ের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সন্দীপ ঘোষের এক বাংলোর সন্ধান পান তদন্তকারীরা। আবার নিউটাউন সংলগ্ন নোয়াপাড়াতেও সন্দীপ ঘোষের একটি তিনতলা বাড়ি ও বেলেঘাটায় আরও দুটি ফ্ল্যাটের খোঁজ মেলে।
কিন্তু এখন তাঁর সমস্ত সম্পত্তি সিজড করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা। ফলে এবার বেশ যাঁতাকলে সন্দীপ ঘোষ। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। তাদের দিন চালাতে বেশ সমস্যা হচ্ছে বলে খবর। সন্দীপ ঘোষের পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব। এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে চেয়ে আবেদন জানান সন্দীপ ঘোষ।
জানা গিয়েছে, এই মামলাটি শুনতে পারে বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক। আদালতে আর্জি জানিয়ে সন্দীপ জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারে অভাব চলছে। পারিবারিক খরচ-সহ নানান খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁর পরিবারকে। সেই খরচ সামাল দেওয়ার জন্য ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙার আবেদন জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ কালীপুজোর মেলায় চটুল নাচ-জুয়া আসরে আপত্তি, প্রতিবাদ করায় যুবককে বেধড়ক মার, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালো তৃণমূল নেতা
তাঁর সেই আবেদনে হাইকোর্ট সাড়া দেয় কী না, সেটাই এখন দেখার। বলে রাখি, প্রথমে আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের মামলায় সন্দীপকে গ্রেফতার করা হয়নি। করা হয়েছিল আর জি করের আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে। তবে পরবর্তীতে আর জি করের মূল ঘটনাতেও সন্দীপকে গ্রেফতার করে সিবিআই।






