বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ-কে নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল, সোমবার বাঁকুড়ার নির্বাচনী সভা থেকে সৌমিত্র খাঁ-র নাম না করেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো। সৌমিত্রর ডিভোর্স নিয়ে মন্তব্য করেন। এবার মমতার সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়ে মমতার ভাইপো অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ শানালেন সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)।
কী বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
গতকাল, সোমবার বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তীর সমর্থনে নির্বাচনী সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই সৌমিত্র খাঁ-র (Saumitra Khan) ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর নাম না নিয়েই তিনি বলেন, “একজন বিষ্ণুপুর, নাই বা বললাম, জানি না ডিভোর্স হয়েছে কি না, তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়েছে সেখানে। তাঁর যদি আমি ফটোগুলি খুলি… তাহলে বিষ্ণুপুরের মানুষ বুঝতে পারবে, বিজেপি কত আদর্শবান দল। যাঁরা মিথ্যে কথা বলে বেড়ায়। সব ছবি আমার কাছে আছে”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দেন সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)। এর মধ্যে টেনে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। বলেন, “আমি চাইছি আপনি (ছবি) সামনে নিয়ে আসুন। এবার স্বামী-স্ত্রীর কোথায় কোন পুরনো ছবি থাকল, তার ছবি দিলেন, সেটা আলাদা বিষয়। শুধু এটুকুই বলব, দম থাকলে অরিজিনাল ভাবে নিয়ে আসুন। মিথ্যা বুজরুকি বাঁকুড়ার মানুষকে দেবেন না, বিষ্ণুপুরের মানুষকে দেবেন না। আপনার ভাইপো চোর হতে পারে, সৌমিত্র খাঁ চোর নয়। আপনার ভাইপো চরিত্রহীন হতে পারে, চারটে রাশিয়ান পুষতে পারে… সৌমিত্র খাঁ কোনও মেয়েকে পোষেনি”।
প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নানান প্রার্থীদের মধ্যে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলেই ছিলেন সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)। তৃণমূলের টিকিটেই ২০১৪ সালে ভোটে জিতে বিষ্ণুপুরের সাংসদ হন তিনি। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে যোগ দেন বিজেপিতে। সেবারেও বিষ্ণুপুর থেকে জিতে ফের সাংসদ হন তিনি।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌমিত্র খাঁ-র (Saumitra Khan) স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল যোগ দেন তৃণমূলে। সেই থেকেই ভাঙন ধরে তাদের সম্পর্কে। ডিভোর্স হয় দু’জনের। সেই নিয়েই জলঘোলা কম হয়নি। সেই সুজাতা মণ্ডলকেই বিষ্ণুপুর থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আর এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ। অর্থাৎ প্রাক্তন স্বামী-স্ত্রী এখন সম্যক সমরে। শেষ হাসিটা কে হাসেন, এখন সেটাই দেখার।





