স্কুলে শিক্ষিকা মাত্র ২ জন আর ছাত্রী সংখ্যা ৩। তাও বেশিরভাগ দিনই স্কুলে আসে না ছাত্রীরা। বসে থেকে থেকে সময় পার করে বাড়ি চলে যান শিক্ষিকারা। এভাবেই এক দশকের বেশি সময় ধরে চলেছে বাংলার এই স্কুল। কোনও হেলদোল নেই জেলা শিক্ষা দফতরেরও।
কোথায় ঘটছে এমন ঘটনা?
ঘটনাটি পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের রাঘবপুর অঞ্চলের নডিহা জুনিয়ার মহিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের। এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয় ২০১২ সালে। সেই সময় স্কুলের ছাত্রী সংখ্যা ছিল ২৫ জন আর শিক্ষিকা ছিলেন ৩০ জন। ছাত্রী সংখ্যা কমতে কমতে এখন মাত্র ৩ জনে এসে ঠেকেছে আর শিক্ষিকা সংখ্যা ২-তে।
জানা গিয়েছে, শিক্ষিকারা নিয়ম করে স্কুলে হাজিরা দিলেও, দেখা মেলে না ছাত্রীদের। ৩ জনই তো ছাত্রী, তাদের মধ্যে নাকি ২ জনই বেশিরভাগ দিনই অনুপস্থিত থাকে। ফলে প্রতিদিন স্কুলে এসেও ঘড়ি দেখে সময় পার করে বাড়ি চলে যান শিক্ষিকারা। আর এই নিয়ে কোনও হুঁশ নেই জেলা শিক্ষা দফতরের।
কেন এই স্কুলে ভর্তি হয় না ছাত্রীরা?
আসলে, এই স্কুলের ৩ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে তিনটি হাইস্কুল। সেই স্কুলে রয়েছেন পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, রয়েছে পড়াশোনার আরও অনেক ভালো পরিকাঠামো। সেই কারণে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই সেই সমস্ত স্কুলেই তাদের ভর্তি করান অভিভাবকরা।
আর এদিকে নডিহা জুনিয়ার মহিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষিকা তো নেই-ই আর শিক্ষার পরিকাঠামোও অত্যন্ত খারাপ। তার উপর আবার এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্তই পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তারপর অন্য হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণেই এই স্কুল এখন এলাকায় ব্রাত্য।
জানা গিয়েছে, এই বিষয়টি বারবার শিক্ষিকারা জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা দফতর, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। নিজেদের চাকরি টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন স্কুলে আসতেই হয় দুই শিক্ষিকাকে। কিন্তু ছাত্রী থাকে না প্রায় দিনই।





