এর আগে দেশের নানান প্রান্তেই ঘুরেছেন তিনি। বহুরূপী সেজেই ঘুরে বেড়ান তিনি। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালান। উদ্দেশ্য একটাই, শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধি গড়ে তোলা থেকে বাল্য বিবাহ রোধ করা। এবার সেই উদ্দেশে অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্দেশে পাড়ি দিলেন তিনি।
কে এই ব্যক্তি?
এই ব্যক্তি হলেন, হুগলির খানাকুলের মাছপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মুখোপাধ্য়ায়। আরামবাগ থানার তিলকচক গ্রামের বাসিন্দা তিনি। সামনেই অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধন। ২২ জানুয়ারি মন্দিরের উদ্বোধনের জন্য সেখানে পৌঁছচ্ছেন ভক্তরা। এবার গত শুক্রবার খানাকুল থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত ৯০০ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেই পাড়ি দিলেন এই মাস্টারমশাই। উদ্দেশ্য, সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গত শনিবার তিনি পৌঁছন বর্ধমানের কার্জন গেটে। সেখানে এক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “এটা তো একটা বড় সমস্যা। আমি পায়ে হেঁটেই অযোধ্যা যাব। আমি বহুরূপী সেজে যে বার্তাগুলি গুলি প্রচার করি সেগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এটা করছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ তো এখন অযোধ্য়ায় আসছেন। সে জন্যই ওই জায়গাটিকে বেছে নিয়েছি”।
ওই মাস্টারমশাইয়ের কথায়, “বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে হবে, শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, পরিবেশ বাঁচাতে গাছ বাঁচাতে হবে, বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি কমাতে হবে, এই বার্তগুলিই একজন স্কুল শিক্ষক হিসাবে দিতে চাই। এর আগে পায়ে হেঁটে দিল্লি গিয়েছিলাম। এ ছাড়া আমি বহুরূপী সেজে দিঘা, পুরীতে ঘুরেছি। সরকার থেকে অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিতও করা হয়েছে”।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাল্যবিবাহ, নাবালিকাদের অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এসেছে। সেই পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ওই জেলায় ৬৮২২ জন নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এমন রিপোর্ট সামনে আসতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বৈ কী!





