ট্যাবের টাকা উড়েছে বিভিন্ন খাতে, রসিদ জমা দেওয়ার ভয়ে স্কুলমুখোই হচ্ছে না উচ্চমাধ‌্যমিকের পড়ুয়ারা

ট্যাব কিনে যাতে ভালোভাবে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে সেই কথা ভেবেই ভোটের আগে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই টাকা হাতে পাওয়ার আনন্দের ছবি মিডিয়াতে ধরাও পরে। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে কয়জন শিক্ষার্থী ট্যাব আদতে কিনেছেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বিভিন্ন খাতে খরচ হয়েছে এই টাকা। কিন্তু স্কুলে ট্যাব কেনার রশিদ জমা দিতে হবে‌। আর সেই ভয়েই স্কুলমুখো হচ্ছে না উচ্চমাধ‌্যমিকের পড়ুয়ারা।

আরও পড়ুন-নন্দীগ্রাম নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন নরেন্দ্র মোদী!

উল্লেখ্য, অনলাইন পঠনপাঠনের স্বার্থে ট্যাব বা স্মার্টফোন কেনার জন্য উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া রাজ্য সরকারের টাকা ঠিক কাজে লাগানো হয়েছে কিনা, তার প্রমাণ দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হতেই সমস্যার সূত্রপাত। জানা যাচ্ছে, ওই টাকার ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’, অর্থাৎ ট্যাব বা মোবাইল কেনার রসিদ কোথা থেকে দেব, এই ভেবে স্কুলে আসাই ছেড়ে দিয়েছে বা ছেড়ে দিতে চাইছে গরিব ঘরের বহু ছাত্রছাত্রী। কারণ, তারা ওই টাকার ট্যাব-মোবাইল কেনেনি।

আরও পড়ুন-কে কোন জায়গায় দাঁড়াচ্ছেন? একঝলকে দেখে নিন বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

জানা গেছে অনেকেই ওই টাকায় আমফান ঝড়ে ভেঙে যাওয়া বাড়ি মেরামতিতে কিংবা পরিবারের লোকের চিকিৎসাতেই তা বেরিয়ে গিয়েছে। তারা আদৌ উচ্চ মাধ্যমিকে বসবে কিনা, স্কুল কর্তৃপক্ষ সেটাই ভেবে পাচ্ছে না। স্কুলমুখো না হলে কীভাবে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ করবে? আদৌ পরীক্ষায় বসবে তো? প্রশ্ন এখন এটাই।

শিক্ষা দপ্তরের কাছে এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে সমাধানসূত্র খোঁজার অনুরোধ জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক। গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ প্রধানশিক্ষকের বক্তব্য, ট্যাবের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর দরিদ্র বহু ছাত্রছাত্রীই তা দিয়ে ট্যাব কেনেনি। অনেকে ওই দশ হাজার টাকায় আমফানে ভেঙে যাওয়া ঘর মেরামত করেছে, অনেকে চিকিৎসায় খরচ করেছে। এবার বিল জমা দিতে বলা হলে তারা ভয়ে স্কুল পথে যাচ্ছে না। এই বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা-প্রস্তুতি কীভাবে শেষ করবে, কীভাবেই বা তাদের ফের স্কুলমুখী করা যাবে, এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষাদপ্তরের দরবারে হাজির হয়েছে রাজ্যের প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস।’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দনকুমার মাইতির আক্ষেপ, “গ্রামাঞ্চলের প্রতি স্কুলের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ পড়ুয়া মোবাইল বা ট্যাব না কিনে অন্য প্রয়োজনে টাকা ব্যবহার করেছে। স্কুল বিল দিতে চাপ দেওয়ার পর অনেকে স্কুলে আসছে না, অনেকে আবার ভুয়া বিলও জমা দিয়েছে। সেই বিল কী পদ্ধতিতে প্রধানশিক্ষক যাচাই করবেন, তার উপায় খুঁজতে মাথার চুল ছেঁড়ার দশা।”

RELATED Articles