রাজ্যে এক সময় একচেটিয়া ব্যবসা করে গিয়েছে ডিয়ার লটারি (Dear Lottery)। অন্যান্য লটারি সংবাদ-এর (Lottery Sambad) তুলনায় এই লটারি সংবাদ-এর (Lottety Sambad) চাহিদা অনেকটাই বেশি রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। এই ডিয়ার লটারির (Dear Lottety) ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গেই বহু মানুষের রুজি রোজগার জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিয়ার লটারি (Dear Lottery) বিক্রি করেই সংসার চালান অনেকেই।
কিন্তু গত সোমবার থেকে জলপাইগুড়ি জেলায় বন্ধ হয়ে গেল ডিয়ার লটারি বিক্রি। বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রাইজ পিছু তারা যে কমিশন পান, তা কমিয়ে প্রায় অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাদের সংসারে টান পড়ছে।
বিক্রেতারা আরও অভিযোগ করেন যে গত কয়েক মাস ধরেই জলপাইগুড়ি জেলায় তেমন বড় কোনও পুরস্কার আসছে না। যে সমস্ত টিকিট বিক্রি হচ্ছে না, তা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আর তাতেই পুরস্কার উঠছে। এই কারণে লটারি বিক্রি তলানিতে ঠেকেছে বলে দাবী বিক্রেতাদের। এই কারণেই সোমবার থেকে ডিয়ার লটারি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এই প্রেক্ষিতে শহরে মাইকিংও করা হয়েছে বলে খবর।
লটারি বিক্রেতাদের কথায়, “আগে আমাদের বিক্রি করা টিকিটে ৫ সিরিজের খেলায় কেউ যদি ৬০০ টাকা পুরস্কার পেতেন, তবে আমরা পেতাম ৫০ টাকা। আজ থেকে সেই টাকার পরিমাণ কমিয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া আমরা খেলা শুরুর আগে যেইসব বিক্রি না হওয়া টিকিট ফেরত দিতাম, দেখা যাচ্ছে সমস্ত বড় প্রাইজ সেই সব টিকিটেই হচ্ছে। ফলে টিকিট বিক্রিও কমে গেছে। তাই আমরা আজ থেকে ডিয়ার লটারি বিক্রি বন্ধ করলাম। পরিস্থিতি না বদলালে আমরা এই লটারি আর বেচব না”।
দীর্ঘদিনের পুরোনো লটারি ডিলার উত্তম মুখার্জী এই বিষয়ে জানান, “লটারি টিকিটের ক্ষেত্রে বিক্রেতাই আসল ভূমিকা পালন করে। এখন ভাউচার কমিশন অর্ধেক করে দেওয়ার ফলে নিশ্চিত ভাবে সমস্যায় পড়বেন বিক্রেতারা। তাঁরা টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেবেন। ফলে আমরা, ডিলাররাও কর্মহীন হয়ে পড়ব”।
তাঁর কথায়, “আমরা আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারি বিক্রি করতাম। খুব ভাল খেলা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে এই লটারি খেলা বন্ধ হয়ে গেল। আমরা চাই বঙ্গলক্ষ্মী রাজ্য লটারি পুনরায় চালু করা হোক”। তবে ডিয়ার লটারি সংস্থার তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





